নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
"কেউ মালা কেউ তসবি গলে
তাই তে কি জাত ভিন্ন বলে"
— লালনগীতির এই কথাকে ফের একবার বাস্তবের মাটিতে তুলে ধরলেন পুরুলিয়ার এক মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী। কালীপুজোর প্রাক্কালে পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে লাগদা গ্রামের তিন মাইল কালীমন্দিরটি সংস্কার করে এক উজ্জ্বল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির গড়লেন শেখ সুলেমান। তাঁর এই উদ্যোগে বিবর্ণ মন্দিরটি যেন এখন নতুন রূপে সেজে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাগদার ওই কালী মন্দিরটির বেহাল দশা ছিল। সংস্কারের অভাবে রংও হয়ে গিয়েছিল সম্পূর্ণ ফ্যাকাসে। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে মন্দির কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে তা সারিয়ে তুলতে পারছিলেন না। বিপাকে পড়ে তাঁরা দ্বারস্থ হন পরিচিত ব্যবসায়ী তথা সমাজসেবী শেখ সুলেমানের। কোনো রাখঢাক না রেখে, এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা না করে সুলেমান মন্দিরটি নতুন রঙে রাঙিয়ে তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। বর্তমানে রক্তবর্ণ ও নতুন রূপে সেজে ওঠা মন্দিরে এখন শ্যামার আরাধনার প্রস্তুতি তুঙ্গে।
সম্প্রীতির এই ছবি পুরুলিয়ায় নতুন কিছু নয়। ঝালদার বাসিন্দা শেখ সুলেমান দীর্ঘকাল ধরে একটি দুর্গাপূজা কমিটির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছেন। পুজোর দিনগুলিতে প্যান্ডেলে গিয়ে নিজ হাতে কাজ করতেও দেখা যায় তাঁকে। তাঁর এই মনখোলা মনোভাব ও সমাজসেবামূলক কাজ নিয়ে মন্দির কমিটির কর্মকর্তা পলাশ বাউরি বলেন, "আমাদের তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় মন্দির সংস্কার নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সুলেমানদার কাছে সাহায্য চাওয়া মাত্র তিনি যেভাবে এগিয়ে এলেন, তা সত্যিই বিরল। এটা আমাদের এলাকার সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।"
কালীপুজোর আগে নিজের গ্রামের মন্দির এমন নতুন রূপ পাওয়ায় বেজায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। ব্যবসায়ী শেখ সুলেমান জানান, "মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ঘুচিয়ে উৎসব সকলের হওয়া উচিত। আসন্ন পুজোর দিনগুলোতেও আমি মায়ের কাছে সশরীরে হাজির থাকব।"