নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
শীতের আগাম পদধ্বনি শুনিয়েছিল পুরুলিয়া। ২৪ অক্টোবর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ১৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির পর বদলে গেল আবহাওয়ার ছবি। রাতের তাপমাত্রা বেড়ে এখন ১৯ ডিগ্রির ঘরে। পাশাপাশি বেড়েছে বৃষ্টির পরিমাণও। বৃহস্পতিবার জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৫.১৫ মিলিমিটার। আগের তুলনায় বৃষ্টির বিস্তারও বেড়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। ২৭ অক্টোবর পুরুলিয়ায় গড় বৃষ্টি হয়েছিল ৮.৭২ মিলিমিটার। দু’দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১৫.১৫ মিলিমিটার। জেলার ১৩টি ব্লকের মধ্যে ১২টিতেই বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি জয়পুরে, ৩৬.৩ মিলিমিটার। কাশিপুরে ২৫.২, সাঁতুড়িতে ২৪.৪, বরাবাজারে ২০ এবং বলরামপুরে ১৯.১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। নিতুড়িয়ায় ১৫.৮, পাড়ায় ১১.৮, বাঘমুণ্ডিতে ১১.২, ঝালদায় ১০.২ এবং হাতোয়াড়ায় ৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মানবাজারে অবশ্য বৃষ্টি হয়নি।
তাপমাত্রার পরিবর্তনও নজর কাড়ছে। ২৪ অক্টোবর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.১ ডিগ্রি। ২৭ অক্টোবর তা বেড়ে হয় ১৯ ডিগ্রি। বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯.১ ডিগ্রি। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানে রাতের পারদ প্রায় চার ডিগ্রি বেড়েছে। অন্য দিকে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি থেকে কমে ২৯.৯ ডিগ্রিতে দাঁড়িয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পুরুলিয়ায় না পড়লেও তার পরোক্ষ প্রভাবে বৃষ্টি ও তাপমাত্রার এই পরিবর্তন। অন্যদিকে হেমন্তের অকাল বর্ষণে বেশ ক্ষতির মুখে চাষিরা। ধান থেকে পালং, টমেটো থেকে কপি — ক্ষতি হয়েছে অনেক।
অন্যদিকে আগামী সপ্তাহেই ঠান্ডা বাড়বে। রাতের তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে যেতে পারে। এমনটাই পর্যবেক্ষণ তথ্যভিজ্ঞ মহলের।