ক্রাইম ব্লক

১ মাসও কাটেনি, মৌতড়ের বড়ো মায়ের গয়না চুরির কিনারা, ধৃত ৩, উদ্ধার ১৯ লক্ষের গয়না

▪️গত ১ অক্টোবর রাতে মন্দিরের তালা কেটে প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনা- রুপার গহনা চুরি। ▪️ধৃত তিন অভিযুক্ত হলো পুরুলিয়া শহরের কাটিনপাড়ার বাসিন্দা আকাশ রাওয়ানি, গঙ্গা যাদব এবং চুরি যাওয়া রুপো ক্রেতা তথা গলানোর সঙ্গে যুক্ত মহরম আনসারি।
১ মাসও কাটেনি, মৌতড়ের বড়ো মায়ের গয়না চুরির কিনারা, ধৃত ৩, উদ্ধার ১৯ লক্ষের গয়না


নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর:

রঘুনাথপুর থানার প্রখ্যাত মৌতোড় কালী মন্দিরে চুরির ঘটনার এক মাসও কাটেনি, আর তারই মধ্যে চুরি রহস্যের কিনারা করে দিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। গত ১ অক্টোবর রাতে মন্দিরের তালা কেটে প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনা- রুপার গহনা চুরির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ৬ কেজির বেশি রুপো।

শুক্রবার রঘুনাথপুর পুলিশ স্টেশনের প্রেস কনফারেন্সে এই সাফল্যের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন পুলিশ সুপার  কুমার শানি রাজ  বলেন, মৌতোড় জেলার সবচেয়ে বিখ্যাত কালী মন্দির।
কালীপুজোর আগে এই হাই-প্রোফাইল কেসের কিনারা করা পুলিশের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এসডিপিও রঘুনাথপুর, আইসি রঘুনাথপুর, ডিএসপি হেডকোয়ার্টার এবং স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ -এর যৌথ টিম লাগাতার ৩০ দিন ধরে প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্থানীয় সোর্সের ভিত্তিতে এই মামলার তদন্ত চালায়।
তিনি জানান, "তদন্তে নেমে  জানতে পারি যে ‘গুলগুলিয়া’ বা ‘বানজারা’ গ্যাংয়ের সদস্যরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। অভিযুক্তরা পুলিশের নজর এড়াতে অপরাধের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না এবং সিসি ক্যামেরা এড়িয়ে কাঁচা রাস্তা বা ধানের খেত ব্যবহার করে যাতায়াত করত। এমনকি গ্যাস কাটার ব্যবহার করে অত্যন্ত সুকৌশলে মন্দিরের তিনটি তালা কাটা হয়েছিল"।

তিনি আরও বলেন, ধৃত তিন অভিযুক্ত হলো পুরুলিয়া শহরের কাটিনপাড়ার বাসিন্দা আকাশ রাওয়ানি, গঙ্গা যাদব এবং চুরি যাওয়া রুপো ক্রেতা তথা গলানোর সঙ্গে যুক্ত মহরম আনসারি। মূল অভিযুক্ত আকাশ রাওয়ানির বিরুদ্ধে ওড়িশা, রাঁচি ও পুরুলিয়ায় ইতিপূর্বেই ৫টি এবং গঙ্গা যাদবের বিরুদ্ধে ২টি চুরির পুরোনো মামলা রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া রুপোর গয়নাগুলির আকার আয়তন গলিয়ে পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছিল। মন্দির কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনে খুব শীঘ্রই এই গয়নাগুলি মন্দির কর্তৃপক্ষের জিম্মায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করতে এবং অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে এদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে রিমান্ডে নিয়ে জেরা চালিয়ে আরও তদন্ত করছে পুলিশ।