খেলা শহর

কলকাতার বদলে পুরুলিয়ায় সিআইএল কাপের সেমিফাইনাল-ফাইনাল, উদ্যোগী সাংসদ জ্যোতির্ময়

▪️২১ হাজার ফুটবলারের টুর্নামেন্টে পুরুষ বিভাগে শিলিগুড়ি। ▪️মহিলা বিভাগে কৃষ্ণনগর চ্যাম্পিয়ন। ▪️চ্যাম্পিয়ন দল পায় ২ লক্ষ টাকা। ▪️রানার্স দলকে দেওয়া হয় ১ লক্ষ টাকা।
কলকাতার বদলে পুরুলিয়ায় সিআইএল কাপের সেমিফাইনাল-ফাইনাল, উদ্যোগী সাংসদ জ্যোতির্ময়

 

 

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:


কলকাতা থেকে সারা বাংলাকে পুরুলিয়ায় ছিনিয়ে আনলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। যে ঐতিহাসিক ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলিতে হওয়ার কথা ছিল, সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর তত্ত্বাবধানে তা আয়োজিত হলো পুরুলিয়ার এমএসএ স্টেডিয়ামে। ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের খেলা ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

সাংসদ  জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো  বলেন,
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের এই ফুটবল টুর্নামেন্ট পশ্চিমবঙ্গে  অনুষ্ঠিত হলো। এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে যাতে জঙ্গলমহলের ফুটবল আরও প্রসারিত হয় সেই কারণেই আমি কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম এই এলাকায় ফাইনাল খেলা করতে। "
যেভাবে কিশোর-কিশোরী থেকে যুবসমাজ মোবাইলে মগ্ন হয়ে পড়ছেন তাতে উদ্বিগ্ন সাংসদ। তাঁর কথায়," সেই কারণেই  আমরা ফুটবলকে বেছে নিয়েছি। ফুটবল শুধু শরীরচর্চা নয়। মানসিক বিকাশও ঘটায়।

প্রায় এক বছর ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল ১,৪০০টি দল। প্রায় ২১ হাজার ফুটবলারের অংশগ্রহণে রাজ্যের ৫০টি মাঠে আয়োজন করা হয় ১,৩১০টি ম্যাচ। দুর্গাপুর, হাওড়া, কৃষ্ণনগর ও শিলিগুড়ি—এই চার জ়োনে ছড়িয়ে থাকা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের দায়িত্ব পেয়ে পুরুলিয়া যেন হয়ে উঠল রাজ্যের ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু। পুরুষ বিভাগের ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে টাইব্রেকারে হাওড়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় শিলিগুড়ি। অন্য দিকে, মহিলা বিভাগের ফাইনালে শিলিগুড়িকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নেয় কৃষ্ণনগর। বিজয়ী দলগুলির হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। চ্যাম্পিয়ন দল পায় ২ লক্ষ টাকা এবং রানার্স দলকে দেওয়া হয় ১ লক্ষ টাকা।

বিজয়ী অধিনায়ক অনুপ সরকার বলেন, "আমাদের দল জেলা ও শিলিগুড়ি জোন পেরিয়ে পুরুলিয়ার রাজ্য স্তরের খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে অত্যন্ত আনন্দিত। দুর্গাপুর জোনকে হারিয়ে এবং ফাইনালে টাইব্রেকারে জয়লাভ করে আমাদের এই কঠিন লড়াই সফল হয়েছে"।

প্রতিভা অন্বেষণের পাশাপাশি যুবসমাজকে মাঠমুখী করে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড। আয়োজনের দায়িত্বে ছিল ‘ব্যাক টু ভিলেজ’। স্থানীয় স্তর থেকে শুরু করে রাজ্য পর্যায় পর্যন্ত প্রতিযোগিতার বিস্তার ছিল নজরকাড়া। তার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ-তরুণীদের ফুটবল প্রতিভা।