সাধারণ খবর শহর

পুরুলিয়া টাউনের ছবি দেখলে অবাক হবেন, পাড়ায় ঢোকে না গাড়ি, ডুলিই ভরসা রোগীর

বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে আলোড়ন উঠতেই জেলা শাসকের নির্দেশে পুরুলিয়া পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার সরেজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। কী কারণে রাস্তা সংকীর্ণ, কেন টোটো ঢোকে না এলাকায়, বিশদে খোঁজ নেন তিনি।
পুরুলিয়া টাউনের ছবি দেখলে অবাক হবেন, পাড়ায় ঢোকে না গাড়ি, ডুলিই ভরসা রোগীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

প্রত্যন্ত গ্রামের ছবি নয়। খোদ পুরুলিয়া শহরেরই দৃশ্য। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ভরসা বলতে চাদরে তৈরি দোলা। কারণ, এলাকায় ঢোকার মতো রাস্তা নেই। সংকীর্ণ পথ দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স তো দূরের কথা, ঢুকতে পারে না টোটোও। তাই এক মুমূর্ষু রোগীকে চাদরে জড়িয়ে দোলার মতো করে কাঁধে চাপিয়ে নিয়ে যেতে হল রাস্তার এক প্রান্ত পর্যন্ত। সেখান থেকে টোটো বা অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।  এমনই ছবি ধরা পড়েছে পুরুলিয়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চিড়াবাড়ি এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে আলোড়ন উঠতেই জেলা শাসকের নির্দেশে পুরুলিয়া পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার সরেজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। কী কারণে রাস্তা সংকীর্ণ, কেন টোটো ঢোকে না এলাকায়, বিশদে খোঁজ নেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিড়াবাড়ির ওই টোলায় ৪০-৫০টিরও বেশি পরিবারের বসবাস। অথচ সেখানে রাস্তা বলতে কার্যত কিছুই নেই। পথ এতটাই সংকীর্ণ ও বেহাল যে চার চাকার কোনও যানবাহন তো দূরের কথা, তিন চাকার টোটোও ঢুকতে পারে না। ফলে কেউ অসুস্থ হলে কিংবা কোনও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে এ ভাবেই দোলায় চাপিয়ে এলাকার বাইরে নিয়ে যেতে হয়। তার পরে মেলে গাড়ির সুবিধা।


অসুস্থ বৃদ্ধার আত্মীয়া বেলা বাউরি বলেন, "এলাকায় গাড়ি ঢোকার রাস্তা না থাকায় অসুস্থ ও প্রসূতি নারীদের খাটিয়া বা চ্যাংদোলা করে বহু দূর নিয়ে যেতে হয়, এমনকি রাস্তাতেই প্রসব হয়েছে এমন ঘটনাও ঘটেছে। রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য মিউনিসিপালিটি ও কাউন্সিলরকে বারবার জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি, কেবল আশ্বাসের বাণীই মিলেছে। রাস্তা ও ড্রেনের পাশাপাশি এলাকায় আলোরও তীব্র সংকট রয়েছে"।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ঝুমা দত্ত বলেন, "আমাদের এলাকায় কাঁচা রাস্তার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রচুর কাদা জমে।  জল পার হওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেই।এর ফলে গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স তো দূর, টোটোও ঢুকতে পারে না।"

শহরের বুকেই এমন পরিস্থিতি কেন, উঠছে সেই প্রশ্ন। পুরুলিয়া শহরের একটি ওয়ার্ডে বসবাস করেও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অ্যাম্বুল্যান্সের পরিষেবা না পাওয়ার এই ছবি পুরসভার পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল।