সাধারণ খবর শহর

পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের একাধিক দফতরের দায়িত্বে রদবদল

জেলাশাসকের জারি করা নির্দেশিকায় অতিরিক্ত জেলাশাসকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন আধিকারিককে একাধিক দফতর, প্রকল্প ও সরকারি কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা।
পুরুলিয়া  জেলা প্রশাসনের একাধিক দফতরের দায়িত্বে রদবদল

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

জেলা প্রশাসনের কাজের গতি বাড়াতে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও দফতরের কাজের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করতে আধিকারিকদের মধ্যে দায়িত্ব  নতুন ভাবে বণ্টন করল পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। জেলাশাসকের জারি করা নির্দেশিকায় অতিরিক্ত জেলাশাসকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন আধিকারিককে একাধিক দফতর, প্রকল্প ও সরকারি কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) পাটিল যোগেশ অশোকরাওয়ের তত্ত্বাবধানে থাকছে নাজিরখানা, সার্কিট হাউস পরিচালনা, অডিট ও ট্রেজারি সংক্রান্ত কাজ, প্রোটোকল, তথ্য ও সংস্কৃতি, যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনশৃঙ্খলা, পুলিশ সমন্বয়, জেল সংস্কার, অগ্নি নির্বাপণ, গণবণ্টন ব্যবস্থা, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন এবং অস্ত্রের লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজও এই বিভাগের আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন, পরীক্ষা পরিচালনা, ভূমি রাজস্ব আদায়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, পাসপোর্ট এবং তথ্য জানার অধিকার আইনের বিষয়গুলির দায়িত্বও নির্দিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) উৎকর্ষ সিংহের তত্ত্বাবধানে থাকছে স্বাস্থ্য দফতর, আয়ুষ্মান ভারত, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন, জেলা পরিকল্পনা, সাংসদ উন্নয়ন তহবিল ও বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ই-গভর্ন্যান্স, আইটি পার্ক, নীতি আয়োগের অ্যাসপিরেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ও অ্যাসপিরেশনাল ব্লক কর্মসূচির দায়িত্বও এই বিভাগের অধীনে রাখা হয়েছে। শিক্ষা দফতর, সমগ্র শিক্ষা মিশন, পিএম পোষণ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, আদিবাসী উন্নয়ন, কন্যাশ্রী এবং নারী ও শিশুকল্যাণের দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলাশাসক ও জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক দেবাশিস চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে থাকছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার, উদ্বাস্তু পুনর্বাসন, জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশ ও বন দফতর এবং আবগারি সংক্রান্ত কাজ। জাতীয় সড়ক ও রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টিও এই বিভাগের আওতায়। পরিবহণ দফতর, পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড ও বিমানবন্দর সংক্রান্ত বিষয় এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও নির্দিষ্ট আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলাশাসক ও জেলা পরিষদের অতিরিক্ত কার্যনির্বাহী আধিকারিক শমীক কুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে থাকছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, স্বচ্ছ ভারত মিশন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং একশো দিনের কাজের পরিবর্তিত কর্মসূচি ভিবি-জি রাম জি। জেলা পরিষদের সচিবের দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজও এই বিভাগের অধীনে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া জেলা গ্রামোন্নয়ন দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পূর্ত, সেচ ও জলসম্পদ দফতরের কাজের জন্যও আলাদা দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। সংখ্যালঘু উন্নয়ন, মাদ্রাসা, ঐক্যশ্রী এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিগমের প্রকল্পগুলির দায়িত্বও নির্দিষ্ট আধিকারিকদের হাতে দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশিকায় শুধু কাজের দায়িত্ব বণ্টনই নয়, আধিকারিকদের ছুটি, সফর বা প্রশিক্ষণে থাকার সময় বিকল্প দায়িত্ব সামলানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তার জন্য ১০টি জোড়া আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে পারস্পরিক দায়িত্ব পালনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কোনও আধিকারিক অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বিকল্প আধিকারিককে দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। তবে সেই সময়ে শুধুমাত্র জরুরি ও চলতি কাজের নিষ্পত্তি করা যাবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নীতিগত সিদ্ধান্ত বা বড় অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কাজ যাতে কোনও আধিকারিকের অনুপস্থিতিতে থমকে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন ব্যবস্থা বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।