স্বাস্থ্য ব্লক

দীপাবলিতে আঁকরোকে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপহার, তিন দশক পরে ফের চালু ইনডোর

প্রায় ৩০ বছর বন্ধ থাকার পরে অবশেষে ইনডোর পরিষেবা চালু হল পুরুলিয়ার মানবাজার ২ ব্লকের আঁকরো প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। দীপাবলির মুখে এই পরিষেবা চালু হওয়ায় খুশি এলাকার বাসিন্দারা।
দীপাবলিতে আঁকরোকে স্বাস্থ্য পরিষেবার উপহার, তিন দশক পরে ফের চালু ইনডোর

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বোরো:

দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার অবসান। প্রায় ৩০ বছর বন্ধ থাকার পরে অবশেষে ইনডোর পরিষেবা চালু হল পুরুলিয়ার মানবাজার ২ ব্লকের আঁকরো প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। দীপাবলির মুখে এই পরিষেবা চালু হওয়ায় খুশি এলাকার বাসিন্দারা। শনিবার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর হাত ধরে নতুন করে পথ চলা শুরু করল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এর ফলে বোরো-জারগো এবং আঁকরো-বড়কদম—এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ২৪ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।

এক সময়ে কার্যত পোড়ো বাড়িতে পরিণত হয়েছিল স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। দীর্ঘদিনের দাবির পর নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে ভবন। এখানে সারাক্ষণ দু’জন চিকিৎসক, পাঁচ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্স থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল জমানায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছিল ১ কোটি ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৭৩ টাকা। তবে সেই কাজ গতি পায়নি। পরে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে কাজ দ্রুত এগোয়। এ দিন পরিষেবা চালুর অনুষ্ঠানে তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন সাংসদ। জ্যোতির্ময় বলেন, “এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিষেবা চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু দীর্ঘ বাম আমলে তা হয়নি। তৃণমূল জমানাতেও হয়নি।”

এ দিন পরিষেবা চালুর পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ঘুরে দেখেন সাংসদ। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক সুধীর কোন্তম, বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে, মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু এবং বলরামপুরের বিধায়ক জলধর মাহাতো।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, শুধু আঁকরো নয়, জেলার আরও কয়েকটি বেহাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল ফেরানোর উদ্যোগ চলছে। বান্দোয়ানের লতাপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য ১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেখানে কাজ চলছে জোরকদমে। জামতোড়িয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও বরাদ্দ মিললে কাজ শুরু হবে। অন্য দিকে আড়শা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা।  ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ইনডোর পরিষেবা বন্ধ সেখানে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর শীঘ্রই তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।