ক্রাইম ব্লক

পোস্ত কারবারের আঁতুড়ঘরে এসটিএফের হানা! বাঘমুন্ডিতে ৯ জনের সম্পত্তি ক্রোকের তোড়জোড়

▪️ধানের ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবারের অভিযোগ। ▪️ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা টাকার উৎস জানতে নোটিস পুলিশের। ▪️বৈধ সম্পত্তির নথি জমা না দিলে ক্রোকের পদক্ষেপ।
পোস্ত কারবারের আঁতুড়ঘরে এসটিএফের হানা! বাঘমুন্ডিতে ৯ জনের সম্পত্তি ক্রোকের তোড়জোড়

 

 

সুইটি চন্দ্র , বাঘমুন্ডি :

পোস্ত চাষের জমি কি সত্যিই সাফ অযোধ্যা পাহাড়ে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুক্রবার বাঘমুন্ডিতে হাজির রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পুরুলিয়া জেলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে চারটি গ্রামে চলল কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। ড্রোন উড়িয়ে নজরদারিও চালানো হল। তবে এ দিনের অভিযানে শুধু পোস্ত চাষের খোঁজ নয়, নজর ছিল কারবারের আর্থিক শিকড়েও। বেআইনি পোস্ত কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে ন'জনের সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু করতে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হল পুলিশের নোটিস। ব্যাঙ্কে জমা টাকার উৎস এবং সেই টাকায় তৈরি সম্পত্তির বৈধতার প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া পুলিশের দাবি, একসঙ্গে এত জনের বিরুদ্ধে আর্থিক তদন্তের এই পদক্ষেপ রাজ্যে নজিরবিহীন।

রাজ্যে পালাবদলের পরে মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু গ্রেফতার বা মামলা রুজুতেই আটকে থাকতে চাইছে না পুলিশ। কারবার করে যে সম্পত্তি তৈরি হয়েছে, তার উৎস খুঁজে আর্থিক ভিতেও আঘাত করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। পুজোর আগে বাঘমুন্ডির এক পোস্ত কারবারির সম্পত্তি ফ্রিজ করার পদক্ষেপ করেছিল পুলিশ। সম্প্রতি সেই সিদ্ধান্তে পুরুলিয়া আদালতের সিলমোহর মিলেছে। এ বার একসঙ্গে আরও ন'জনের বিরুদ্ধে সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু হল।

শুক্রবার ঝালদার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক গৌরব ঘোষের তত্ত্বাবধানে এসটিএফ ও পুরুলিয়া পুলিশের যৌথ অভিযান চলে পাটাহেঁসেল, রেলা, কুচি এবং সারজামাহাতু গ্রামে। প্রথমে পাটাহেঁসেল গ্রামে গিয়ে সুরজ সাউ, নীরজ সাউ এবং তাঁদের মা কমলা সাউয়ের বিরুদ্ধে চলা আর্থিক তদন্তের নোটিস দেওয়া হয়। সুরজকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাই নীরজের হাতে নোটিস তুলে দেন এসডিপিও। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া টাকায় কী কী সম্পত্তি তৈরি হয়েছে, তার বৈধ নথি পুলিশের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর পরে রেলা গ্রামে ফুলচাঁদ সাউ ও জয়চাঁদ সাউয়ের বাড়িতে যায় পুলিশের দল। জয়চাঁদকে না পেয়ে তাঁর ভাই ফুলচাঁদের হাতে নোটিস দেওয়া হয়। কুচি গ্রামে বিভীষণ সাউয়ের হাতে সরাসরি নোটিস পৌঁছে দেয় পুলিশ। সারজামাহাতুতে ভারত সাউ ও যামিনী সাউয়ের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের অনেকে বাড়িতে না থাকায় পরিবারের সদস্যদের হাতেও নোটিস দেওয়া হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ধান ব্যবসার আড়ালেই চলত পোস্ত কারবার। ওই ব্যবসাকে বৈধ বলে দেখাতে জিএসটি নথি এবং ট্রেড লাইসেন্সও তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তদন্তকারীদের। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নীরজ সাউ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা পোস্তর কারবার করি না। ধানের ব্যবসা করি।আমাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’

গত জুন মাস থেকে পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে অভিযান শুরু করেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, গত দু'-তিন বছর ধরে অযোধ্যা পাহাড় রেঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় পোস্ত কারবারের রমরমা ছিল। জেলা পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ দায়িত্ব নেওয়ার পরে ধারাবাহিক অভিযান এবং সচেতনতার প্রচার—দুই পথেই চাষ বন্ধের চেষ্টা জোরদার হয়।

শুক্রবার কলকাতা থেকে আসা এসটিএফের আধিকারিকেরা বাঘমুন্ডির কুররা গ্রামেও যান। একসময় এই গ্রাম ছিল পোস্ত চাষের অন্যতম আঁতুড়ঘর। এ দিন ড্রোন উড়িয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। তবে কোথাও পোস্ত চাষের সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। বাড়ির ছাদ, জলের ট্যাঙ্ক, ড্রাম-সহ সন্দেহজনক জায়গাও খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।