চাষাবাদ ব্লক

আর কেবল ধান চাষ নয়, ভর্তুকি মূল্যে হুড়ার চাষিদের আইপিএল ডালবীজ

বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বীজ হাতে পেয়ে খুশি এলাকার কৃষকরাও। চাটুমাদার, পিচারগড়া, হরিটাড় ও চাকনদীর কৃষকদের কথায়, "বাইরে খোলা বাজারে ১৬৫ টাকা কেজি দরে যে বীজ কিনতে হতো, আজ তা মাত্র ৬৫ টাকা কেজি দরে ৪ কেজি করে পেলাম।
আর কেবল ধান চাষ নয়, ভর্তুকি মূল্যে হুড়ার চাষিদের আইপিএল ডালবীজ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,হুড়া:

ধান ও ভুট্টার একঘেয়ে চাষ থেকে বেরিয়ে এবার জেলার কৃষকদের ডালশস্য চাষে উৎসাহিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বীজ নিগম লিমিটেড। শনিবার, সরকারি ছুটির দিনেই পুরুলিয়ার হুড়া ব্লকে  ৫০ জন প্রগতিশীল কৃষকের হাতে ভর্তুকি মূল্যে উন্নত মানের আইপিএল জাতের মুসুরি এবং ছোলার শংসিত বীজ তুলে দেওয়া হলো।

জেলা বীজ নিগম সূত্রে জানা গেছে, হুড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কৃষকরা এই ভর্তুকির সুযোগ পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বীজ নিগমের জেলা প্রবন্ধক পরিমল বর্মন এবং হুড়া ব্লকের সহ-কৃষি অধিকর্তা চিদানন্দ সিং মুড়া।
জেলা প্রবন্ধক পরিমল বর্মন জানান," অন্যান্য ফসলের তুলনায় ডালশস্য ও তৈলবীজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ কম দেখা যায়। অথচ এই জাতীয় ফসলে অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া বাজারে ভালো মানের ডাল বীজের দাম বেশি থাকায় সাধারণ কৃষকদের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সমস্যার সমাধান করতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে"।

বীজ নিগম সূত্রে জানা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি মুসুরি বীজের দাম ১৫৫ টাকা ৩৮ পয়সা হলেও কৃষকরা তা মাত্র ৬৫ টাকা ৩৮ পয়সায় পেয়েছেন, যেখানে প্রতি কেজিতে সরকারি সহায়তা মিলছে ৯০ টাকা। একইভাবে, ১৪৮ টাকা ২৫ পয়সা বাজার দরের ছোলার বীজ কৃষকদের জন্য ১০৮ টাকা ২৫ পয়সায় সরবরাহ করা হয়েছে (প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা ভর্তুকি)।


হুড়ার সহ-কৃষি অধিকর্তা চিদানন্দ সিং মুড়া এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "জেলায় এই প্রথমবার সরাসরি সরকারি ভর্তুকিতে কৃষকরা ডালশস্যের বীজ পেলেন।"

বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বীজ হাতে পেয়ে খুশি এলাকার কৃষকরাও। চাটুমাদার, পিচারগড়া, হরিটাড় ও চাকনদীর কৃষকদের কথায়, "বাইরে খোলা বাজারে ১৬৫ টাকা কেজি দরে যে বীজ কিনতে হতো, আজ তা মাত্র ৬৫ টাকা কেজি দরে ৪ কেজি করে পেলাম। এই বীজ দিয়ে সহজেই এক বিঘা জমিতে চাষ করা সম্ভব হবে।" রাজ্য সরকারের এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হুড়ার চাষিরা।