ক্রাইম শহর

গত তিন বছরে যা হয়নি, তা করে দেখাল পুরুলিয়া পুলিশ! উদ্ধার ১৫২ লিটার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ

▪️সাতটি মামলা, গ্রেফতার সাত! ▪️ভিন্‌রাজ্য থেকে সিরাপ এনে জেলায় চলত খুচরো কারবার। ▪️পর্দাফাঁস পুলিশের।
গত তিন বছরে যা হয়নি, তা করে দেখাল পুরুলিয়া পুলিশ! উদ্ধার ১৫২ লিটার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

গত তিন বছরে যা হয়নি, তা করে দেখাল পুরুলিয়া পুলিশ। মাদকবিরোধী অভিযানে একসঙ্গে উদ্ধার হল ১৫২ লিটার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ! বোতলের সংখ্যা ১২০০-রও বেশি। এই কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতটি পৃথক মামলা দায়ের করে সাত জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার মাদকবিরোধী সপ্তাহের শেষ দিনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনই দাবি করলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ।

পুলিশের দাবি, ভিন্‌রাজ্য থেকে নিষিদ্ধ কোডিন ফসফেট মিশ্রিত কাশির সিরাপ এনে পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হত। বাড়ি কিংবা গুদামে মজুত থাকত সিরাপ। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী এক-দু'বোতল করে খুচরো বিক্রি চলত। মফস্বল থানা এলাকাকে কেন্দ্র করেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এই কারবারের নেটওয়ার্ক ছড়িয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

জেলা পুলিশ সুপার জানান, হুড়া, আড়শা, পুরুলিয়া টাউন, টামনা ও জয়পুর থানায় একটি করে এবং মফস্বল থানায় দু'টি মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন হুড়ার অপূর্ব গোপ, আড়শার সুবোধ কুমার, পুরুলিয়া টাউনের বাবলু ওরফে শেখ আলফজুদ্দিন, টামনার আলম আনসারি এবং জয়পুরের লব কুমার। মফস্বল থানার একটি মামলায় ধৃত এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ১০-১২টি সাধারণ মামলা এবং দু'টি এনডিপিএস মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়াও জনৈকা আভা রানি দেবী ও তাঁর নাতনি দোলনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ সুপারের দাবি, এই চক্রের মূল পাণ্ডা বিভিন্ন এলাকায় কয়েক জনকে কাজে লাগিয়ে সিরাপের কারবার চালাত। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে সিরাপ সরবরাহ না করে ছোট ছোট ভাগে বিক্রি করা হত, যাতে সহজে পুলিশের নজরে না আসে। মফস্বল থানার দু'টি মামলাতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সিরাপ উদ্ধার হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সিরাপের বোতলে হিমাচল প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের সংস্থার নাম রয়েছে। কী ভাবে ওই দুই রাজ্য থেকে সিরাপ পুরুলিয়ায় পৌঁছল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশ। এই কারবারের পিছনে আরও বড় কোনও সরবরাহকারী চক্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কাশির সিরাপের পাশাপাশি দু'টি পৃথক ঘটনায় প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন কেজি গাঁজাও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, গত দু'-তিন বছরে পুরুলিয়ায় এই ধরনের এত বড় পরিমাণে কাশির সিরাপ উদ্ধারের নজির নেই। রাজ্য সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি মেনেই মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস থেকে গোটা সরবরাহ চক্রের হদিশ পেতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।