সাধারণ খবর সংস্কৃতি ধর্ম ও পুজোপাঠ

আবেগের বাঁদনা পরবে মেতেছে জঙ্গলমহল

কৃষিজীবী মানুষের জীবনে বলদ, গাভী ও কৃষি সহায়ক যন্ত্রপাতির গুরুত্ব অনেকখানি। তাই তাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যই এই পরব পালন করে থাকেন তাঁরা। বাঁদনা পরবের আগে মাটির ঘরকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তুলেছেন। মহিলাদের নিপুণ হাতে তুলির ছোঁয়ায় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে মাটির দেওয়াল গুলো।
আবেগের বাঁদনা পরবে মেতেছে জঙ্গলমহল

 


দেবীলাল মাহাতো, অড়শা:

কালীপুজোর অমাবস্যার রাত থেকে আবেগের বাঁদনা পরবে মেতেছেন পুরুলিয়া সহ ছোটনাগপুর মালভূমি এলাকার কৃষিজীবী মানুষ। গো বন্দনা হিসেবে পরিচিত এই পরব।  কৃষিজীবী মানুষের জীবনে বলদ, গাভী ও কৃষি সহায়ক যন্ত্রপাতির গুরুত্ব অনেকখানি। তাই তাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যই এই পরব পালন করে থাকেন তাঁরা।  বাঁদনা পরবের আগে মাটির ঘরকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তুলেছেন। মহিলাদের নিপুণ হাতে তুলির ছোঁয়ায় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে মাটির দেওয়াল গুলো।

পুরুলিয়া সহ ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলের গ্রামগুলোতে এখন উৎসবের আবহ। বাঁদনা পরবের প্রথমদিন করা হয় গোঠপুজা। সন্ধ্যার সময় বাড়ির দরজা,তুলসি মঞ্চ সহ বিভিন্ন জায়গায় শাল ,কাঁঠাল গাছের পাতায় চালের গুঁড়ি রেখে সলতে দিয়ে জালানো হয় প্রদীপ। এই রীতিকে বলা হয় কাঁচি দিয়ারি । গ্রামের শেষ প্রান্তে হয় ইজোর পিজোর খেলা। রাতে গ্রামের মানুষ ঢোল ধামসা সহ বাড়িতে বাড়িতে যান। অহিরা গীত গেয়ে গবাদি পশুদের জাগিয়ে রাখেন। কৃষিজীবী মানুষের বিশ্বাস কালীপূজার রাতে মর্ত্য লোকের প্রতিটি বাড়িতে আসেন স্বয়ং শিব । সেই জন্য গোয়াল ঘরে সারা রাত ধরে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখেন তাঁরা। পরের দিন হয় গরয়া পুজা। শেষ দিন গরু খুঁটা।

কৃষিভিত্তিক সভ্যতায় গবাদি পশুদের অবদান অপরিহার্য। গৃহস্থের শ্রীবৃদ্ধির জন্য তারাও সারা বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে থাকেন।  তাই বাঁদনা পরবের সময় তাদের দিয়ে কোনো কাজ করানো হয় না। দেওয়া হয় পূর্ণ বিশ্রাম। বিশ্বায়নের যুগে নাগরিক সংস্কৃতি, গ্রামীণ সংস্কৃতিতে থাবা বসালেও এই ভাবেই কৃষিজীবী মানুষ ধরে রেখেছে  তাদের ঐতিহ্য , তাদের সংস্কৃতি।