উৎসবের আলোয় শহর

নীলকন্ঠ ধাম দেখতে যাবেন? উদ্বোধন হয়ে গেল ধীবর সমিতির দুর্গাপূজা

শতবর্ষে পদার্পণ করা এই পুজো ঘিরে এবার পুরুলিয়াবাসীর উন্মাদনা তুঙ্গে। দেবীপক্ষের প্রতিপদে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক দুর্গোৎসবের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে।
নীলকন্ঠ ধাম দেখতে যাবেন? উদ্বোধন হয়ে গেল ধীবর সমিতির দুর্গাপূজা

 

সুইটি চন্দ্র , পুরুলিয়া

শত বছরের বঞ্চনা ও অপমানের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ধীবর সমিতির দুর্গাপূজা। শতবর্ষে পদার্পণ করা এই পুজো ঘিরে এবার পুরুলিয়াবাসীর উন্মাদনা তুঙ্গে। দেবীপক্ষের প্রতিপদে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক দুর্গোৎসবের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে।

ধীবর সমিতির সদস্য কল্যাণ ধীবরের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুজোর শেকড় লুকিয়ে রয়েছে শত বছর আগের এক গভীর অপমানের স্মৃতির মধ্যে।
তিনি বলেন, "প্রায় ১০০ বছর আগে ধীবর সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষরা কাছের এক মন্দিরে প্রতিবছর নিয়মিত পুজো দিতে যেতেন।
এক বছর তৎকালীন সমাজপতি ও মন্দির কতৃপক্ষ ধীবর সম্প্রদায়ের মানুষদের "নিচু জাত" তকমা দিয়ে পুজো দিতে বাধা দেয় এবং অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। সেই অপমানের জবাব দিতে এবং আত্মসম্মান বজায় রাখতে পূর্বপুরুষরা একত্রিত হয়ে নিজস্ব উদ্যোগে পুজো শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই ক্ষোভ ও ঘুরে দাঁড়ানোর জেদ থেকেই আজকের এই দুর্গাপূজার সূচনা।
প্রথমে ৪২ ঘর ও আটচালা প্রতিমা দিয়ে এই পুজোর যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ৪৭ ঘরে এসে দাঁড়িয়েছে এবং আটচালা ছাড়িয়ে আজ তা একটি সুদৃশ্য মন্দিরে রূপ নিয়েছে"। কল্যাণ ধীবরের মতে, এটি কেবল ধীবর সমিতির নয়, বরং সমগ্র পুরুলিয়াবাসীর গর্ব।"

এবারের শতবর্ষের পুজোয় সাধারণ মানুষের জন্য অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো নীলকণ্ঠ ধাম সোমনাথেশ্বর মন্দির-এর আদলে তৈরি মণ্ডপ।

রাসমন্দির চত্বরে গড়া হয়েছে গুজরাটের বিখ্যাত নীলকণ্ঠ ধামের আদলে তৈরি এই বিশেষ আকর্ষণ। এর পাশাপাশি সাবেকিয়ানার ঐতিহ্য বজায় রেখেই প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।

শতবর্ষের এই বিশেষ লগ্নকে স্মরণ করে এক দর্শনার্থী আবেগঘন কন্ঠে জানান, "আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে আমাদের অপমান করা হয়েছিল। সেই অপমানের জবাব দিতেই আমাদের পূর্বপুরুষরা এই মন্দির ও পুজোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজ শতবর্ষে এসে সেই মন্দির পূর্ণরূপ নিয়েছে। সকলকে বলব, আসুন, ঐতিহ্যের শরিক হোন।"