ক্রাইম ব্লক

গভীর রাতে অবৈধ কয়লা পাচারের ছক ভেস্তে দিল মফস্বল থানার পুলিশ

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাঁচি রোডে নাকা তল্লাশি চালিয়ে ৫৭ মেট্রিক টন বেআইনি কাঁচা কয়লা বোঝাই একটি বিশাল ১৬ চাকার ট্রাক আটক করল পুলিশ। ঘটনায় আটক করা হয়েছে ট্রাকের চালককেও।
গভীর রাতে অবৈধ কয়লা পাচারের ছক ভেস্তে দিল মফস্বল থানার পুলিশ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

কখনও সরকারি নথির আড়ালে, আবার কখনও মিথ্যা দাবির ছদ্মবেশে বেআইনি কয়লা পাচারের চেষ্টা। সেই চেনা ছক ভেস্তে দিল পুরুলিয়া মফস্বল থানার পুলিশ। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে হাতিয়ার করে  বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাঁচি রোডে নাকা তল্লাশি চালিয়ে  ৫৭ মেট্রিক টন বেআইনি কাঁচা কয়লা বোঝাই একটি বিশাল ১৬ চাকার ট্রাক আটক করল পুলিশ। ঘটনায় আটক করা হয়েছে ট্রাকের চালককেও।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎই রাঁচি রোডের গুরুত্বপূর্ণ নাকা পয়েন্টে বিশেষ অভিযানে নামেন ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) এবং মফস্বল থানার আইসি। রাতের আঁধারে একের পর এক খনিজবাহী ট্রাকে শুরু হয়  তল্লাশি। সেই সময়ই পুলিশের নজরে আসে একটি ১৬ চাকার বিশালাকার ট্রাক। গাড়িটিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চালক দাবি করেন, গাড়িতে কোক  নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু চালকের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে।  ট্রাকের ত্রিপল খুলে ফেলা হয়। আর তাতেই বেরিয়ে পড়ে আসল সত্য কোকের আড়ালে রাখা ছিল খনি থেকে সদ্য তোলা প্রচুর পরিমাণ কাঁচা কয়লা।

পুলিশ আধিকারিকরা তৎক্ষণাৎ পরিবহনের বৈধ চালান ও কাগজপত্র দেখতে চান। তবে তা দেখাতে ব্যর্থ হন চালক। এরপরই গাড়িটিকে ওজন করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওজন স্কেলে যে তথ্য ওঠে, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! নির্দিষ্ট অনুমোদিত সীমার তোয়াক্কা না করে ৫৭ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ওই এক ট্রাকেই। অবৈধভাবে খনিজ পরিবহন এবং ওভারলোডিং দুই অভিযোগেই পুলিশ ট্রাকটি বাজেয়াপ্ত করে চালককে হেফাজতে নেয়।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাতের অন্ধকারকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে জেলা জুড়ে যে কয়লা বা বালি মাফিয়া রাজ চালানোর চেষ্টা করছিল, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বেআইনি খনিজ পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের এই ‘জিরো টলারেন্স’ ড্রাইভ আগামী দিনগুলোতে আরও আগ্রাসী রূপ নেবে।