সাধারণ খবর ব্লক

জাইকা প্রকল্পের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মানবাজারে, বললেন, বদলে যাবে পুরুলিয়া

পুরুলিয়ায় বালির দাম নিয়ে ক্ষোভের কথা স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি জানি, বালির রেট একটু বেশি হয়ে গিয়েছে। একটু সময় দিন। সব ঘাট লিগালাইজ করব।’’ সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সরকার না রোজগার করলে আপনাদের কী ভাবে দেব? হাসপাতাল কী ভাবে হবে? স্কুল কী ভাবে হবে?’’
জাইকা প্রকল্পের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মানবাজারে, বললেন, বদলে যাবে পুরুলিয়া

 

শুভদীপ মাহাতো, মানবাজার :

যে এলাকায় হচ্ছে জাইকা প্রকল্পের মূল কর্মকাণ্ড, সেই মানবাজার পঞ্চায়েতই বাদ এই মেগা প্রকল্প থেকে? সোমবার মানবাজারের মাধবপুর ফুটবল ময়দানে প্রায় ১৩০০ কোটির প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মঞ্চ থেকে নামার সময় এলাকাবাসীর ক্ষোভের কথা জানতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টিতে বিরক্ত হয়ে পিএইচই দপ্তরের সচিব রনভীর কুমারকে কার্যত তিরস্কারই করেন শুভেন্দু। তৎক্ষণাৎ এই পঞ্চায়েত জাইকা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

শ্রাবণের শেষ সোমবার প্রবল বর্ষণে বদলে ফেলতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি। খারাপ আবহাওয়ায় অন্ডাল থেকে কপ্টারে না এসে সড়কপথেই মানবাজার মাধবপুর ফুটবল মাঠে প্রশাসনিক জনসভায় পৌঁছান শুভেন্দু। মঞ্চ থেকেই ভার্চুয়ালি প্রকল্পটির উদ্বোধন করলেন তিনি।

জাইকা জল প্রকল্পে বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে জল এনে পুরুলিয়ার পাঁচটি ব্লকের একাংশ এবং পুরুলিয়া পুরসভায় সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে মানবাজার ১, পুঞ্চা, পুরুলিয়া ১, আড়শা ও বরাবাজার ব্লকের ৪৫৮টি মৌজা। উপকৃত হবেন মোট ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০৬ জন। ।
প্রকল্পে ৪২টি জলাধার রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৬.৮ কোটি লিটার জল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই জল প্রকল্পের উদ্বোধন এমন দিনে হলো, যেদিন বাংলার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার ১০০ দিন পূর্ণ করেছে। সেই ১০০ দিনে শিল্পায়নের আশার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী।

মানবাজারে প্রশাসনিক জনসভার মঞ্চে 
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আদিবাসী কল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরী বিভাগের মন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দার, অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ ও পূর্ত বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি, পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ, জাইকার পক্ষে জাপানের প্রতিনিধি, জেলার বিধায়করা সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিক। ছিলেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত প্রসাদ মাহাতোও।

আগামী বছর ৯ মে-ই রাজ্যের আমজনতার কাছে নিজের ‘পরীক্ষা’ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মানবাজারের মাধবপুর ফুটবল ময়দানে সোমবার প্রশাসনিক জনসভা থেকে এমনই বার্তা দিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ২০২৭ সালের ৯ মে মুখ্যমন্ত্রিত্বের এক বছর পূর্ণ হবে। সেদিনই সরকারের কাজের খতিয়ান নিয়ে জনতার দরবারে হাজির হবেন তিনি। পরীক্ষায় ১০-এর মধ্যে ৯ না পেলে মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সভায় শুভেন্দু বলেন, ‘‘অনেক আশা, স্বপ্ন নিয়ে আপনারা আমাদের জিতিয়েছেন। আমরা নরেন্দ্র মোদিজির গ্যারান্টি পূরণ করব। আগামী ২০২৭-এর ৯ মে আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের এক বছর পূর্ণ হবে। সেদিন আমি আপনাদের সঙ্গে পরীক্ষায় বসব। পরীক্ষায় আপনারা আমাকে নম্বর দেবেন। আমি যদি দশের মধ্যে ৯ না পাই, তা হলে আপনাদের কাছে ক্ষমা স্বীকার করে নেব— যে, না, আমি পারলাম না। আপনারাই বলবেন, ভুল লোককে ঠিক করিনি, সঠিক লোককে সঠিক দলকে দিয়েছি। বিশ্বাস, ভরসা রাখুন। সময় দিন।’’

এ দিনই মঞ্চ থেকে মনসা পুজো উপলক্ষে মঙ্গলবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় সরকারি ছুটির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এই প্রথম মনসা পুজোয় সরকারি ছুটি দেওয়া হচ্ছে।’’ যদিও তার আগে অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার অর্ধদিবস ছুটির কথা জানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সেই বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করা হয়।

পুরুলিয়ায় বালির দাম নিয়ে ক্ষোভের কথা স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি জানি, বালির রেট একটু বেশি হয়ে গিয়েছে। একটু সময় দিন। সব ঘাট লিগালাইজ করব।’’ সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘সরকার না রোজগার করলে আপনাদের কী ভাবে দেব? হাসপাতাল কী ভাবে হবে? স্কুল কী ভাবে হবে?’’

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বালি ১২০০ টাকায় দেওয়ার ব্যবস্থা করতে জেলা শাসককে নির্দেশ দেন তিনি।

কুড়মি বোর্ডের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও এ দিন ফের মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর নিজের হাতে রেখেছেন, তার ব্যাখ্যাও দেন তিনি। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময়ে যেখানে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা খরচ হত, সেখানে এ বার ১৬০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে।

সব জেলাশাসককে আড়াই কোটি টাকার করে প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করার পরিকল্পনার কথাও বলেন।

পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘‘পুরুলিয়াকে শিল্পে ভরিয়ে দেব। আপনারা ফিরে আসুন।’’ জেলায় শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার আশ্বাস দেন তিনি।

সরকারি চাকরি নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে শিক্ষক, পুলিশ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিলিয়ে এক লক্ষ নিয়োগ করা হবে।

কলকাতার পরে দ্বিতীয় ধাপে পুরুলিয়ায় ইসকন মিড-ডে মিল সরবরাহ শুরু করবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সপ্তাহে দু’দিন আলাদা করে ডিম দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

এ দিন জেলার বেশ কয়েকটি স্কুলকে সিএসআর প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা করে পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। সেই সংক্রান্ত চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্টরা।