পর্যটন

নিউ জলপাইগুড়ি আর দিঘা, জোড়া ট্রেন পাচ্ছে পুরুলিয়া

স্বাধীনতা দিবসে পুরুলিয়ার পর্যটনে জোড়া সুখবর। চলতি পর্যটন মরসুমেই পুরুলিয়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি এবং দিঘার সঙ্গে নতুন রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার সম্ভাবনা। একদিকে পাহাড়ের সঙ্গে পাহাড়, অন্যদিকে পাহাড়ের সঙ্গে সমুদ্র—রেলপথে জুড়তে চলেছে পুরুলিয়া, দার্জিলিং ও দিঘা।
নিউ জলপাইগুড়ি আর দিঘা, জোড়া ট্রেন পাচ্ছে পুরুলিয়া

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

স্বাধীনতা দিবসে পুরুলিয়ার পর্যটনে জোড়া সুখবর। চলতি পর্যটন মরসুমেই পুরুলিয়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি এবং দিঘার সঙ্গে নতুন রেল যোগাযোগ চালু হওয়ার সম্ভাবনা। একদিকে পাহাড়ের সঙ্গে পাহাড়, অন্যদিকে পাহাড়ের সঙ্গে সমুদ্র—রেলপথে জুড়তে চলেছে পুরুলিয়া, দার্জিলিং ও দিঘা।
সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর দাবি মেনে রেল মন্ত্রকের তরফে পর্যটনের প্রসারে এই দুই ট্রেনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি আর্থিক বছরে পুরুলিয়ায় পর্যটকের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছুঁতে পারে। অযোধ্যা পাহাড়, বামনী ফলস, মার্বেল লেক, দেউলঘাটা সহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে গত কয়েক বছরে পর্যটকের আনাগোনা বেড়েছে। এই রেল যোগাযোগ তাতে আরও বৃদ্ধি ঘটাতে পারে বলে প্রশাসনের আশা।
সম্প্রতি বলরামপুরে আয়োজিত 'ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডার কনফারেন্সে' পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন পুরুলিয়ার সাংসদ। অযোধ্যা পাহাড়কে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিংয়ের সঙ্গে রেলপথ যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। বৈঠকেই প্রস্তাবটি নিয়ে ইতিবাচক সাড়া মেলে।
এরপরেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে নতুন ট্রেন চালু এবং একাধিক রেল প্রকল্পের জন্য আর্থিক বরাদ্দের চেয়ে চিঠি দেন জ্যোতির্ময়। যান রেলমন্ত্রীর কাছে। সেই চিঠির ভিত্তিতেই পুরুলিয়া-নিউ জলপাইগুড়ি এবং পুরুলিয়া-দিঘা এই জোড়া ট্রেনকে পর্যটনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আগে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুরুলিয়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি ট্রেন চালু হলে অযোধ্যা পাহাড় ও দার্জিলিংয়ের মধ্যে পর্যটন যোগাযোগ আরও সহজ হবে। আর পুরুলিয়া-দিঘা ট্রেন চালু হলে জঙ্গলমহলের পাহাড়ের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের সৈকতের সরাসরি যোগ তৈরি হবে।
তবে শুধু পর্যটন নয়, জেলার দীর্ঘদিনের রেল দাবির তালিকাও রেলমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন পুরুলিয়ার সাংসদ। পুরুলিয়া-বেঙ্গালুরু এবং দক্ষিণ ভারতের দিকে আরও একটি ট্রেন চালুর দাবি রয়েছে তাঁর। পুরুলিয়া থেকে আসানসোল-বর্ধমান হয়ে হাওড়া পর্যন্ত নতুন ট্রেনের দাবিও জানানো হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে পুরুলিয়া থেকে ভেলুপুরমগামী যে ট্রেনটি বর্তমানে সপ্তাহে ৩ দিন চলে, সেটিকে ৫ দিন করার দাবি জানিয়েছেন সাংসদ। পাশাপাশি হাওড়া-পুরুলিয়া সুপারফাস্টের ভাড়া কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। আসানসোল-শিয়ালদহ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসকে পুরুলিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবিও তুলেছেন পুরুলিয়ার সাংসদ।
এদিকে পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেলপথের 'ডিটেইলস প্রজেক্ট রিপোর্ট' তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করতে আর্থিক বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, রেল মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়া পুরুলিয়া-বাঁকুড়া ভায়া হুড়া নতুন রেলপথের জন্যও অর্থ বরাদ্দের দাবি।
পুরুলিয়ার পর্যটনকে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে আরও বড় পরিসর দিতে নতুন এই দুই ট্রেন কত দ্রুত চলাচল শুরু করে, এখন নজর সেদিকেই। পাহাড় থেকে পাহাড়, পাহাড় থেকে সমুদ্র দুই নতুন রেল যোগাযোগ চালু হলে পুরুলিয়ার পর্যটনে নতুন দিগন্ত খুলবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।