নিজস্ব প্রতিনিধি, বলরামপুর:
পুরুলিয়ার লাক্ষা শিল্পে খুলছে আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন দরজা। রপ্তানির নয়া উদ্যোগের আওতায় পুরুলিয়ার লাক্ষাকে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র। ফলে জেলার লাক্ষা ব্যবসায়ীরা এক্সপোর্ট প্রমোশন মিশনের বিভিন্ন সুবিধা পেতে চলছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও বিদেশের বাজারে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়তি পাওনা। ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান প্রোডাক্ট’ উদ্যোগের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে এই পরিকল্পনা। মঙ্গলবার লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর পাঁচটি প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ এই উদ্যোগের কথা জানান। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে লাক্ষাকে ঘিরে পুরুলিয়ায় ফের শিল্পের প্রসারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গত জুনেই লাক্ষা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। লাক্ষা থেকে তৈরি গালা দেশ-বিদেশে রফতানি হয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও নেপালেও তার বাজার রয়েছে। সুগন্ধি, ওষুধ, রান্নার রং থেকে নৌকা ও বিভিন্ন হস্তশিল্প—প্রায় ১৬০ ধরনের পণ্যে লাক্ষার ব্যবহার রয়েছে। এবার সে সুযোগ আরও বাড়ছে।
লাক্ষা ব্যবসায়ী ঈশ্বর বাংকা বলেন, "পুরুলিয়ার বলরামপুর একসময় লাক্ষা শিল্পের বড় কেন্দ্র থাকলেও কাঁচামালের তীব্র সংকট ও চড়া দামের কারণে বর্তমানে প্রায় ৯০% কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সাথে পুরো জেলায় বৈশাখী ফসল বাদে লাক্ষার চাষও প্রায় নেই বললেই চলে, এবং এর জন্য তৈরি ক্লাস্টারটিও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার পুরুলিয়াকে লাক্ষা শিল্পের বাস্তবায়িত হলে বলরামপুরের পাশাপাশি সমস্ত লাক্ষা চাষী ও ব্যবসায়ীরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন"।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা ট্রেড ফিনান্স, সুদে ছাড়, ক্রেডিট গ্যারান্টি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিং, আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ, লজিস্টিক এবং রপ্তানি-মান সংক্রান্ত সহায়তা পাবেন। লাস ভেগাস, বার্সেলোনা, জেনেভা, ফ্রাঙ্কফুর্টের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রেও ব্যবসার সুযোগ বাড়বে। ইতিমধ্যেই উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের উদ্যোগে জেলায় বন ধন বিকাশ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। জেলার ২০টি ব্লকের মধ্যে ১২টি ব্লকের প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে লাক্ষা চাষ হয়। চাষিদের জন্য গড়ে উঠেছে ২৩টি কৃষক উৎপাদক সংস্থা।
এক সময় লাক্ষা শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র ছিল পুরুলিয়ার বলরামপুর। ১৯০৮ সালে মির্জাপুর থেকে জয়সওয়াল কোম্পানি এসে এখানে লাক্ষা চাষকে বাণিজ্যিক রূপ দেয়। পরবর্তী সময়ে বলরামপুর দেশের অন্যতম লাক্ষা কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দীর্ঘ মন্দার পর ক্লাস্টার গড়ে ওঠায় ফের কিছুটা গতি পেয়েছে শিল্পে। এবার জিআই স্বীকৃতি এবং রপ্তানি হাবের মর্যাদা সেই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।