সাধারণ খবর ব্লক

নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর গ্রামে নেই স্বাধীনতা-পরাধীনতার ফারাক, এই প্রথম পুরুলিয়ার হাড়জোড়ায় পালিত হল দেশের তিরঙ্গা উৎসব

খেড়িয়া-শবর কল্যাণ সমিতির ‘কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার’-এর উদ্যোগে এবারই প্রথম শবরপাড়ার খুদেদের হাত ধরে পালিত হলো ভারতের স্বাধীনতা দিবস।
নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর গ্রামে নেই  স্বাধীনতা-পরাধীনতার ফারাক, এই প্রথম পুরুলিয়ার হাড়জোড়ায় পালিত হল দেশের তিরঙ্গা উৎসব

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া: 

 

যেখানে দিনান্তে পান্তা ফুরোয়। তাই প্রতিদিনের লড়াই  এক মুঠো খাবারের। সেখানে স্বাধীনতা আর পরাধীনতার ফারাক বোঝার সুযোগ কোথায়? কিন্তু চলতি বছরের ১৫ই আগস্ট শনিবার পুরুলিয়ার বলরামপুর ব্লকের হাড়জোড়া গ্রামে এক অন্য ছবি। যা শুধু-ই আনন্দের।। খেড়িয়া-শবর কল্যাণ সমিতির ‘কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার’-এর উদ্যোগে এবারই প্রথম শবরপাড়ার খুদেদের হাত ধরে পালিত হলো ভারতের স্বাধীনতা দিবস।

১৪ই আগস্ট থেকেই হাড়জোড়ার শবরপাড়ায় ছিল সাজো সাজো রব। পতাকা উত্তোলনের প্রস্তুতি দেখতে দেখতে শবর পাড়ার শিশুরা কৌতুহল চেপে রাখতে পারেননি। সরল মনে তাদের প্রশ্ন ছিল, "স্যার, এটা কি বটে? ঠাকুর বটে? আমরা ধূপ আর ফুল নিয়ে আসব?"
তাদের এই সরলতাকে মর্যাদা দিয়েই শেখানো হয় জাতীয় পতাকার সম্মান। খুদেরাও জাতীয় পতাকাকে ঠাকুরের আসনে বসিয়ে পরম শ্রদ্ধায় ধূপ-ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলে পুরো প্রাঙ্গণ। খুব কম সময়ের মধ্যেই নিজেদের হাতে এই আয়োজনে মেতে ওঠে শবর শিশুরা। উপস্থিত শিক্ষকেরা কেবল জাতীয় পতাকাটি তুলে দেন তাদের হাতে। পরবর্তীতে স্থানীয় আশা দিদিমণিও এই উদ্যোগে যোগ দেন। কিছুক্ষণের জন্য হলেও চরম দারিদ্র্য ভুলে গোটা শবর পাড়ায় তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া-শবর কল্যাণ সমিতি-র অধিকর্তা   প্রশান্ত রক্ষিত জানান,
"সমিতির আওতায় থাকা বিভিন্ন সিএলসি এবং হোস্টেলের ছাত্র-ছাত্রীরা আনন্দের সাথে এই দিনটি উদযাপন করেছে।
যাদের কাছে প্রতিদিনের খাদ্যাভাবই মূল বাস্তবতা, তাদের কাছে স্বাধীনতা আর পরাধীনতা দুটোই এক। হাড়জোড়ার মতো গ্রামে শবর বাচ্চাদের জীবনে এটাই প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালন। আমরা ওদের বুঝিয়েছি যে এটাও একধরনের উৎসব বা পুজো, যেখানে জাতীয় পতাকাই আমাদের পরম শ্রদ্ধার জায়গা। স্বাধীনতার আসল গুরুত্ব কী এবং কেন এই দিনটি আমরা পালন করি, সে বিষয়েও ওদের কাছে আলোচনা করা হয়েছে।"

শুধু হাড়জোড়াই নয়, সমিতির অধীনস্থ বিভিন্ন কেন্দ্র এবং হোস্টেলে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। প্রশান্তবাবু আরও জানান, রাজনগর দেবীপ্রসাদ মেমোরিয়াল হাই স্কুলের উল্টোদিকে অবস্থিত শবর গার্লস হোস্টেলের ৫০ জন ছাত্রী একটি নাট্যালেখ্য ও দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে সুন্দর অনুষ্ঠান করেছে। মূল স্কুলে  হোস্টেলের আবাসিকদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন ছিল। দৈনন্দিন পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে খুদেদের জন্য ছিল লুচি, বোঁদে, ফল ও কেকের ব্যবস্থা। ৭০০ জন পড়ুয়ার সামনে তাদের এই পরিবেশনা বেশ প্রশংসিত হয়।