নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর:
মাত্র ২০ বছর বয়সেই মৃত্যু হল এক বধূর। জয়পুরের মুকুন্দপুরে বাড়ি থেকে পম্পা কর্মকারের (২০) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। পণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে পম্পার উপরে অত্যাচার চলছিল বলে অভিযোগ তাঁর বাপের বাড়ির। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রঞ্জিত কর্মকার এবং তাঁর বাবা গঙ্গাধর কর্মকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার তাঁদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার মুকুন্দপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে পম্পার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যেরা। তাঁকে তড়িঘড়ি জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। বছর দুয়েক আগে রঞ্জিতের সঙ্গে পম্পার বিয়ে হয়েছিল। তাদের এক বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য পম্পার উপরে চাপ দেওয়া হত। নগদ টাকা, গয়না-সহ বিভিন্ন জিনিস দাবি করে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। থানায় দায়ের করা অভিযোগে সেই সব কথাই উল্লেখ করেছে পম্পার পরিবার।
পরিবারের দাবি, ১৩ আগস্ট সকালে মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল পম্পার। তার পরেই তাঁর মৃত্যুর খবর পৌঁছায় বাপের বাড়িতে। পম্পার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ তাঁর পরিবারের লোকজন। তাঁদের অভিযোগ, এই ঘটনার পিছনে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাত রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল করা হয়। পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। আপাতত পম্পার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।