নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
শহরের বুকে প্রকাশ্যে দিবালোকে এক গৃহবধূকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাহত করার ভয়াবহ ঘটনা ঘটল পুরুলিয়া শহরে। পুরুলিয়া পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাহাতো পাড়া এলাকায় এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
আক্রান্ত মহিলার নাম মৌসুমি লোহার ওরফে ঝুমা (৩৬)। অভিযুক্ত স্বামী বীরু লোহারকে গ্রেপ্তার করেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। বর্তমানে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় আক্রান্ত গৃহবধূ পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ি পুরুলিয়ার ঝালদা থানা এলাকায়। তবে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিবাদের জেরে তিনি কিছুদিন ধরে পুরুলিয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলঘুটা এলাকায় বাপের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সন্তান ও নিজের সংসার চালাতে গত তিন মাস ধরে স্থানীয় একটি আটা মিলে কাজ করছেন মৌসুমি দেবী।
অভিযোগ, রবিবার রাতে অভিযুক্ত স্বামী বীরু লোহার নিজের মেয়েকে ফোন করে নাতিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই আতঙ্কে মেয়ে তার সন্তানকে নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ মেয়ে ও নাতিকে বাপের বাড়িতে না পেয়ে সোজা স্ত্রীর কর্মস্থল ওই আটা মিলে হাজির হয় অভিযুক্ত বীরু। আটা মিলের দারোয়ানকে দিয়ে স্ত্রীকে বাইরে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত। মৌসুমি দেবী বাইরে আসামাত্রই পকেট থেকে ছুরি বের করে তার মুখ ও শরীরের একাধিক জায়গায় এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে বীরু। রক্তে ভেসে গিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটনাস্থলের কাছে কর্মরত এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের আর্ত চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি আততায়ী স্বামীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এবং তাকে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেন। স্থানীয়দের মতে, ওই যুবকের অসীম সাহসিকতার কারণেই নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন মৌসুমি দেবী।
ঘটনার পরেই আটা মিলের মালিক তৎক্ষণাৎ পুরুলিয়া সদর থানায় খবর দেন এবং একটি টোটোয় করে রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহবধূকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, প্রায় চার ঘণ্টার দীর্ঘ জটিল অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
অন্য দিকে, ঘটনার পরই উত্তেজিত স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত বীরু লোহারকে ঘিরে ফেলে আটক করে এবং পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। অভিযুক্ত স্বামীকেও চিকিৎসার জন্য দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভরদুপুরে শহরের ব্যস্ত এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুরো ঘটনাটির আসল কারণ অনুসন্ধান করতে এবং নেপথ্যের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ।