সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক প্রতিটি জেলার উন্নয়নের জন্য একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিল। নাম দিশা। প্রতি জেলায় সাংসদকে চেয়ারপারসন রেখে মেম্বার সেক্রেটারি জেলা শাসক তিন মাস অন্তর বসবেন রিভিউ মিটিংয়ে। বদলে গেছে সরকার। বদলে গেছে বাংলাও। তৈরি হওয়ার দশ বছর পর ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন এন্ড মনিটরিং কমিটির প্রথম বৈঠক আয়োজিত হলো পুরুলিয়ায়। কেন্দ্র কমিটি গড়েছে, সুতরাং বিজেপি বিরোধী তৃণমূল তার বৈঠক ডাকবে না, এই নাকউঁচু মনোভাব থেকে জেলার উন্নয়ন বহু পিছিয়ে থেকেছে। আর এখানেও ক্ষোভ সাংসদের। বৈঠকে তাঁর সাফ কথা, দুর্নীতিতে আপোস নয়। জল জীবন মিশনের কাজ শেষ করতে হবে চলতি বছরেই। জেলাশাসকও জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরকে ছোটো ছোটো লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করতে বলেন। বিষয়টি ফের পর্যালোচনা করার কথা বলেন চেয়ারপার্সন।
শুধু রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক বিভাগই নয়, বৈঠকে হাজির ছিলো রেল, ডিভিসি এবং জাতীয় সড়ক দপ্তরও। পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম রেলপথের প্রাথমিক কাজ তরান্বিত করার কথা বলা হয় রেলকে। ডিভিসি প্রকল্পে বহু জমি হারা পরিবারের দাবি এখনও জট পড়ে আছে, ডিভিসিকে তা মেটাতে বলেন সাংসদ। অন্যদিকে জেলার প্রতিটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করার প্রকল্প রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সারা রাজ্যে দিশার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রথম পরিচয় পর্বের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
দিশার কাজ হচ্ছে প্রত্যেকটা বিষয়ের তদারকি বা মনিটরিং করা। জলের সমস্যা ছাড়াও অন্যান্য সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।
কোনও দলীয় বৈঠক নয়, এটি একটি প্রশাসনিক বৈঠক এবং এর পেছনে নতুন বা ভিন্ন কোনও বিষয় লুকিয়ে নেই।"
বদলে যাওয়া বাংলায় অন্তত প্রশাসনিক স্তরে বদল বেশ চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল জমানায় কোনও বিরোধী জনপ্রতিনিধি ডাক পেতেন না প্রশাসনিক বৈঠকে। এবার জেলা প্রশাসনের বৈঠকে হাজির সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো। এটাই নিয়ম। এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্তু ১৫ বছরে এমন দস্তুর তৈরি হয়েছিল যে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেত্রী হয়ে উন্নয়ন বৈঠকে সভাধিপতির অংশ নেওয়াই এখন খবর।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো বলেন, "ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পদ হলো জেলা পরিষদের সভাধিপতি। পুরুলিয়া জেলার সভাধিপতি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক মিটিংয়ে আমার অংশ নেওয়া খুবই জরুরি ছিল, কারণ জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে আমাদের নির্বাচিত করেছে মানুষের জন্য কাজ করতে"।
তিনি আরও বলেন, "পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সাধারণ সভায় কোনো দলীয় ভেদাভেদ না রেখে সমস্ত এমপি এবং এমএলএ-দের আমন্ত্রণ জানানো হতো। সবাই একসাথে মিলেমিশে কাজ করাই জেলার মানুষের জন্য মঙ্গলজনক।"
নতুন সরকারের কাজের মূল্যায়নের ব্যাপারে সভাধিপতি বলেন, "সরকার গঠনের মাত্র কয়েকদিন পার হয়েছে। তাই সরকারের কাজ বা তার সুফল কেমন, তা আগামী দিনে সাধারণ জনগণই বিচার করবে।"
পুরুলিয়া রবীন্দ্রভবনে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের রাষ্ট্রমন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরী সহ অন্যান্য বিধায়করা। ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসকদের পাশাপাশি পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি সহ অন্যান্যরা।