রাজনীতি শহর

চাকরির পরীক্ষা ঘিরে কেন্দ্রের বিজেপিকে একহাত নিলেন নেপাল

দেশজুড়ে নিট, এসএসসি সহ একাধিক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে নেমেছে জাতীয় কংগ্রেস।
চাকরির পরীক্ষা ঘিরে কেন্দ্রের বিজেপিকে একহাত নিলেন নেপাল

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া

দেশজুড়ে নিট, এসএসসি  সহ একাধিক জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে নেমেছে জাতীয় কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে হাতিয়ার করে দলের পক্ষ থেকে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি ‘টাকা তোলার ফ্যাক্টরি’ বা অর্থ উপার্জনের কারখানায় পরিণত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সাথে, লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।


বুধবার জেলা কংগ্রেস ভবনে একটি সাংবাদিক বৈঠকে  পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, "বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক গভীর ‘অবিশ্বাস’ ও চরম মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কোটার  মতো কোচিং হাবগুলো আজ সাফল্যের চেয়ে হতাশার কারখানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত বিনিয়োগের তুলনায় আইএএস , আইআইটি বা ডাক্তার হওয়ার হার অত্যন্ত কম। এই শিক্ষা সংকটের জেরে বহু শিক্ষার্থী দিশাহারা হয়ে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে"।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফর্ম ফিলাপ ও পরীক্ষার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হলেও সেই তুলনায় কর্মসংস্থান বা ফলাফল মিলছে না।

২২ লাখ নিট পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ১.৩২ লাখ কোটি টাকা,   ১৫ লাখ জেইই পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ১.৩ লাখ কোটি টাকা, ৩.৫৮ কোটি আরআরবি  কাছ থেকে ০.৩৬ লাখ কোটি টাকা। ২ কোটি এসএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ০.২০ লাখ কোটি টাকা।   ৫ লাখ ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ০.২৫ লাখ কোটি টাকা ফিজ বাবদ নেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেসের দাবি, শুধুমাত্র নিট পরীক্ষা থেকে সংগৃহীত অর্থ ভারতের মোট শিক্ষা বাজেটের  টাকার প্রায় কাছাকাছি। আর এই সমস্ত পরীক্ষাগুলো থেকে সংগৃহীত মোট অর্থের পরিমাণ ভারত সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম, বিজ্ঞান এবং মহিলা ও শিশু কল্যাণ এই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সম্মিলিত বাজেটের সমান।

শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি তুলে শিক্ষা দপ্তরের তীব্র সমালোচনা করে বক্তারা প্রশ্ন তুলেছেন, "যদি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য দেশের এয়ারফোর্স বা মিলিটারি ডেকে আনতে হয়, তবে এই শিক্ষা দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?" বর্তমান ভঙ্গুর ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব দেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।