ক্রাইম ব্লক

স্কোয়াডে আর মাত্র ৬! বান্দোয়ানে শুরু 'মিশন আকাশ', মাওবাদী দমনের শেষ লড়াই?

অভিযান শুরুর আগে বান্দোয়ানের স্পর্শকাতর কুঁচিয়া শিবির পরিদর্শনে যান বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মুদি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রামে গিয়ে বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা এবং জওয়ানদের মনোবল বাড়ান।
স্কোয়াডে আর মাত্র ৬! বান্দোয়ানে শুরু 'মিশন আকাশ', মাওবাদী দমনের শেষ লড়াই?

 

সুইটি চন্দ্র, বান্দোয়ান

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ 'মাওমুক্ত ভারত'-এর সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনে আরও এক ধাপ এগোল নিরাপত্তা বাহিনী। এক রাত আগেই ঝাড়খণ্ডে বাংলার তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা নেত্রীকে গ্রেপ্তারের পর এ বার পুরুলিয়ার বান্দোয়ানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান— পুলিশের অন্দরমহলে যার নাম মিশন আকাশ'। লক্ষ্য, সিপিআই মাওবাদী-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের স্কোয়াডকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করা। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। অভিযানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স, স্ট্র্যাকো এবং জেলা পুলিশের বিশেষ বাহিনী। ঝাড়খণ্ডের দিক থেকেও সীমান্তজুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কার্যত দুই রাজ্যের যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে মাওবাদীদের গতিবিধি রুখে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

অভিযান শুরুর আগে বান্দোয়ানের স্পর্শকাতর কুঁচিয়া শিবির পরিদর্শনে যান বাঁকুড়া রেঞ্জের ডিআইজি অভিষেক মুদি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ। সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রামে গিয়ে বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা এবং জওয়ানদের মনোবল বাড়ান। এই অভিযানের নেপথ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সাম্প্রতিক সাফল্য। বুধবার ভোররাতে ধৃত সিপিআই (মাওবাদী)-র বেঙ্গল ব্রিগেডের নেতা মদন মাহাতো, সাগর সিং এবং বাঘমুন্ডির বাসিন্দা মীরা পাহাড়িয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে দলমা পাহাড় সংলগ্ন আসনবনি গ্রাম থেকে একটি ইনসাস রাইফেলের ম্যাগাজিন এবং ২০৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ। একই সঙ্গে জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকা মাওবাদীদের মূল স্রোতে ফিরে এসে আত্মসমর্পণের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

পুলিশের দাবি, সারাণ্ডায় বাহিনীর চাপ বাড়ায় অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের নেতৃত্বাধীন স্কোয়াড দলমা এলাকায় ফিরে এসে নতুন করে সংগঠন গড়ার চেষ্টা করছিল। দলমা থেকে কাঁকরাঝোর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় নিয়মিত ডেরা বদল করে সংগঠনের কাজ চলছিল। বড় ধরনের নাশকতার ছক কষতেই মদন, সাগর এবং মীরা ওই এলাকায় এসেছিলেন বলেও পুলিশের দাবি। তিন নেতার গ্রেপ্তারের পর আকাশের স্কোয়াডে সদস্যসংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ছয়জনে। আকাশ ছাড়াও ওই দলে রয়েছেন শচিন ও তার স্ত্রী মিতা, মদন মাহাতোর স্ত্রী বুলু ওরফে জবা এবং সমীর মাহাতো ও তার স্ত্রী মালতী। তদন্তকারীদের মতে, পরপর গ্রেপ্তারে স্কোয়াডের মনোবল উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। সেই সুযোগেই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

অভিযানে সীমান্তবর্তী জঙ্গল চষে বেড়ানোর পাশাপাশি গ্রামেগঞ্জে অচেনা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় ঢোকার সমস্ত ছোট-বড় রাস্তায় নাকা চেকিং চলছে। চারচাকা গাড়ি থেকে মোটরবাইক, এমনকি সাইকেল আরোহীদের ব্যাগও তল্লাশি করা হচ্ছে। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, আকাশের বর্তমান অবস্থান এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে পুলিশের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও যৌথ অভিযানের চাপে আকাশের স্কোয়াড এখন সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে। নিরাপত্তা বাহিনীর আশা, এই অভিযানই জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের অবশিষ্ট শক্তিকেও কার্যত ভেঙে দিতে সক্ষম হবে।