নিজস্ব প্রতিনিধি, জয়পুর:
তৃণমূল পরিচালিত সমবায়ে ঋণ বিতরণে হয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। আর তাতেই সমস্যায় সাধারণ গ্রাহকেরা। মিলছে না সমবায়ে গচ্ছিত তাঁদের কষ্টার্জিত টাকা। এমন অভিযোগ তুলে রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার দ্বারস্থ হলেন পুরুলিয়ার জয়পুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির আমানতকারীদের একাংশ। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল আমলে এই সমিতি থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ প্রাপকদের বড় অংশই ছিলো শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। সেই ঋণের অধিকাংশ এখনও আদায় না হওয়ায় পুরুলিয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক সমিতির জমা রাখা আমানত আটকে রেখেছে। ফলে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও নিজেদের গচ্ছিত টাকা ফেরত পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা।
এই অভিযোগ জানিয়ে সমবায়মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আমানতকারীদের একাংশ। অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী, পুরুলিয়ার জেলাশাসক, সহকারী সমবায় সমিতি নিবন্ধক এবং সংশ্লিষ্ট সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছেও।
অভিযোগকারীদের অন্যতম আলোক হাজরা বলেন, "বহু বছর আগে কষ্টার্জিত অর্থ সমবায়ে জমা রেখেছিলাম। বারবার আবেদন করেও টাকা ফেরত পাইনি। শুধু আমি নই, বহু আমানতকারী একই সমস্যার মুখে পড়েছেন। সমিতির দফতরে একাধিকবার গিয়েও শুধু আশ্বাস মিলেছে। তাই বাধ্য হয়েই মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আমাদের একটাই দাবি, সুদ-সহ জমার টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া হোক।"
একসময় উৎকর্ষতার শিখরে উঠেছিল সমবায়টি। বাম আমলে এবং পরে তৃণমূল আমলের শুরুর দিকেও রাজ্যের সেরা সমবায়ের শিরোপা ছিনিয়ে এনেছিল জয়পুর সমবায়। পরে ব্যাপক ঝামেলা শুরু হয়। দীর্ঘদিন নির্বাচন না করে প্রশাসক বসানো হয়। নির্বাচনে তৃণমূল বাম জোট সমবায়ের ক্ষমতা দখল করলেও অবস্থা খারাপ থেকে খারাপতর হয়েছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, নির্ধারিত মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও আমানতের অর্থ ফেরত না পাওয়ায় বহু পরিবার চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। তাই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার না করে জয়পুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক সুভাষ রায় ভান্ডারি বলেন, "বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। সকলকে টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সমবায়ের আর্থিক সমস্যা রয়েছে। বহু ঋণের টাকা এখনও বকেয়া। আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। বারবার বলার পরও যাঁরা ঋণ শোধ করছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমবায়ের যে অর্থ পুরুলিয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রয়েছে, তা ছাড়ানোর জন্যও বারবার আবেদন করেছি। সেই টাকা হাতে পেলেই গ্রাহকদের পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। তবুও যাতে গ্রাহকদের সমস্যা কম হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।"