ক্রাইম শহর

পুরুলিয়া শহর জুড়ে অভিযান, শিশু শ্রমিক রাখলে আইনি পদক্ষেপ

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অভিযানের পারদ চড়তে থাকে বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে। বিভিন্ন হোটেল, খাবারের দোকান এবং ছোট ছোট খাবারের স্টলে আচমকা হানা দেন প্রতিনিধিরা। মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মরত শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
পুরুলিয়া শহর জুড়ে অভিযান, শিশু শ্রমিক রাখলে আইনি পদক্ষেপ

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

কচি হাতগুলোতে বই-খাতার সঙ্গে সঙ্গে ওঠার কথা ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন, অথচ সেই হাতগুলোই আজ ব্যস্ত হোটেল-রেস্তোরাঁর বাসন মাজা কিংবা কনস্ট্রাকশনের ভারী কাজের বোঝা বইতে। শৈশবকে এমনভাবে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং শহরকে শিশু শ্রম মুক্ত করতে এবার একজোট হয়ে মাঠে নামল জেলা প্রশাসন। পুরুলিয়া শহরে একযোগে অভিযানে চালাল লেবার কমিশনারেট, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি , শিক্ষা দপ্তর, ডিস্ট্রিক্ট চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিট এবং পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।
পুরুলিয়া শহরের বুক চিরে চালানো এই অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিল একটাই, শৈশবকে কাজের খাঁচা থেকে বের করে স্কুলের আঙিনায় ফিরিয়ে আনা।   বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অভিযানের পারদ চড়তে থাকে বাসস্ট্যান্ড চত্বর থেকে। বিভিন্ন হোটেল, খাবারের দোকান এবং ছোট ছোট খাবারের স্টলে আচমকা হানা দেন প্রতিনিধিরা। মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মরত শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এরপর নজর ঘুরিয়ে শহরের বিভিন্ন নির্মীয়মাণ বহুতল, বাড়িঘরের কাজের জায়গা এবং রেল স্টেশন সংলগ্ন বাজারগুলোতে অভিযান চালান আধিকারিকেরা।

প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারপার্সন দীপঙ্কর সরকার বলেন, "আমাদের মূল উদ্দেশ্য শিশু শ্রম পুরোপুরি নির্মূল করা। যেসব শিশুদের উদ্ধার করা হচ্ছে, তাদের শুধু কাজ থেকে ছাড়ানোই নয়, তাদের পুনর্বাসন এবং শিক্ষার আলোয় ফেরানোই আমাদের অগ্রাধিকার। অনাথ ও পথশিশুদের ক্ষেত্রে সরকারি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। জেলার আনাচে-কানাচে এই নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

অভিযানের রূপরেখা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে পুরুলিয়া পুরসভার লেবার ইন্সপেক্টর তন্ময় পন্ডা জানান, "হোটেল, রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে নির্মাণকাজে শিশুদের দিয়ে কাজ করানো আইনত মারাত্মক অপরাধ। আজ শহরের বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন এলাকা ও বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইটে যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে আমরা সচেতন করছি। ভবিষ্যতে কেউ শিশু শ্রমিক রাখলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।"

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কেবল উদ্ধার করাতেই এই অভিযানের ইতি নয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মূল স্রোতে ফেরানো, উপযুক্ত পুনর্বাসন, নিখরচায় শিক্ষার সুযোগ এবং সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের বিশেষ আবেদন ,আশেপাশে কোথাও শিশু শ্রমিকের সন্ধান পেলে বা কোনো শিশুকে বিপদে দেখলে অবিলম্বে টোল-ফ্রি নম্বর ১০৯৮-এ ফোন করে খবর দেওয়া হোক। তথ্য পেলেই টিম গিয়ে শিশুদের উদ্ধার করবে এবং সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেবে। জেলাজুড়ে এই যৌথ অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে বলেও দফতর সূত্রে জানা গেছে ।