নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে বাড়ছে ৬০ আসন। এই বিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া বেড়ে হবে ৬১০। আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে স্কুলটির অনুমোদিত আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৬১০ করা হয়েছে। বর্তমানে ৫৫০ জন পড়ুয়ার অনুমোদিত আসনের জায়গায় স্কুলে পড়াশোনা করছে ৫৩০ জন ক্যাডেট। লোকসভায় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোর প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ।
লোকসভায় পুরুলিয়ার সাংসদ জানতে চেয়েছিলেন, পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে বর্তমানে কত জন পড়ুয়া রয়েছেন, অনুমোদিত আসন কত এবং স্কুলের পরিকাঠামো ও পড়ুয়ার ভর্তির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না। একই সঙ্গে গত পাঁচ বছরে স্কুলটির পড়ুয়াদের জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমি (এনডিএ) এবং অন্যান্য সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের সাফল্যের হার সম্পর্কেও জানতে চান তিনি।
জবাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের অনুমোদিত পড়ুয়া সংখ্যা ৫৫০। সেখানে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৫৩০ জন ক্যাডেট। তবে নির্ধারিত সংখ্যার বেশি পড়ুয়া ভর্তি করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে সৈনিক স্কুলগুলিকে। সেই পরিকাঠামোর কথা মাথায় রেখেই ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের অনুমোদিত আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৬১০ করা হয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। সৈনিক স্কুল সোসাইটি স্কুলগুলির অ্যাকাডেমিক ও আবাসিক পরিকাঠামো, খেলাধুলা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি মূল্যায়ন করে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনমতো পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা হয়।
শুধু আসনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, এনডিএ-সহ সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রেও পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের সাফল্য উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এনডিএ-সহ অন্যান্য সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের লিখিত পরীক্ষা এবং এসএসবি-তে এই বিদ্যালয়ের সাফল্যের হার ছিল যথাক্রমে ৮.১৪ শতাংশ এবং শূন্য। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে যথাক্রমে ৩৯.৫৩ শতাংশ এবং ৬.৯৭ শতাংশ।
অর্থাৎ, কয়েক বছরের ব্যবধানে এনডিএ-সহ সামরিক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পরীক্ষায় পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের পড়ুয়াদের সাফল্যের হার প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে এসএসবি-তেও সাফল্যের হার শূন্য থেকে বেড়ে প্রায় সাত শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে পড়ুয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রেও পুরুলিয়ার এই স্কুলের সাফল্য নজর কাড়ছে।