পর্যটন শহর

এক ট্রেনে আজমের থেকে খাটু শ্যাম, দীপাবলীর আগে পুরুলিয়া থেকে পর্যটনের দীপ জ্বালালেন জ্যোতির্ময়

ভারতীয় রেলের কাছে এমনই একটি ট্রেনের দাবি ছিল পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর। সেই দাবি মেনে চালু হলো ট্রেন।
এক ট্রেনে আজমের থেকে খাটু শ্যাম, দীপাবলীর আগে পুরুলিয়া থেকে পর্যটনের দীপ জ্বালালেন জ্যোতির্ময়

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

এক ট্রেনে আজমের শরিফ থেকে খাটু শ্যাম বাবার মন্দির, প্রয়াগরাজ থেকে কাশী, আগরা হয়ে রাজস্থান। পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা জেগে উঠল পুরুলিয়া থেকেও। সাঁতরাগাছি থেকে গোলাপি শহর রাজস্থানের জয়পুর সফরে নতুন ট্রেনের সূচনায় স্টপেজ পুরুলিয়াতেও। চালু হলো সাঁতরাগাছি- খাতিপুরা সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস। এই ট্রেনে উপকৃত হবেন বাংলা, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থান এই ৫ রাজ্যের জনগণ।

ভারতীয় রেলের কাছে এমনই একটি ট্রেনের দাবি ছিল পুরুলিয়ার  সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর। সেই দাবি মেনে চালু হলো ট্রেন। পশ্চিমবঙ্গে এই ট্রেনের প্রধান স্টপেজ গুলি হল খড়গপুর, পুরুলিয়া। ঝাড়খণ্ডে টাটানগর, চান্ডিল, মুরি, রাঁচি, 
লোহারদাগা, টোরি, লাতেহার, বরওয়াডিহ, ডালটনগঞ্জ, গড়ওয়া রোড, জপলা। বিহারের দেহরি অনসোন, সাসারাম, ভভুয়া রোড স্টেশনে থামবে। উত্তরপ্রদেশের পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়, মির্জাপুর, প্রয়াগরাজ, ফতেপুর, কানপুর সেন্ট্রাল, টুন্ডলা ও ঈদগাহ আগ্রায় রয়েছে স্টপেজ । রাজস্থানের খেড়লি, মাণ্ডাওয়ার মাহওয়া রোড, বান্দিকুই, দৌসা হয়ে ট্রেন যাবে খাতিপুরা।

পুরুলিয়া বিজেপির ৪ নং মণ্ডল যুব সভাপতি শুভ্রজ্যোতি কর্মকার জানান,"আগে এমন দূরপাল্লার ভ্রমণে হাওড়া বা আসানসোল যেতে হতো ট্রেন ধরতে, এখন সরাসরি পুরুলিয়া থেকেই ট্রেন পাওয়া যাবে। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর প্রচেষ্টায় এই ট্রেন চালু হওয়ায় নিজে ও এলাকাবাসী অত্যন্ত খুশি এবং গর্বিত"।

শহর বিজেপির ৫ নং মন্ডল সভানেত্রী বন্দনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে পুরুলিয়া থেকে রাজস্থানের নতুন ট্রেন চালু হওয়ায় জেলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বাধা কাটিয়ে এই পরিষেবা শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি আমরাও অত্যন্ত উৎসাহিত । এই  ট্রেনে চেপে রাজস্থান ভ্রমণের প্রবল ইচ্ছা রয়েছে।"

সোমবার সাঁতরাগাছি থেকে ছাড়ে নতুন ট্রেনটি। খড়গপুর, টাটানগর ও চান্ডিল হয়ে রাত ন'টার দিকে পুরুলিয়া স্টেশনে পৌঁছায়। পুরুলিয়া স্টেশনে হাজির পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর তত্ত্বাবধানে রেলের কর্তাদের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাগ অফ অনুষ্ঠান হয়।

রেলের দাবি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আদান-প্রদানকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে এই ট্রেন। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার প্রয়োজনেও এই ট্রেনটি সহায়ক হবে। পর্যটনেও হবে সহায়। প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান ও তীর্থদর্শনে যাওয়া যাত্রীদের সুবিধা হতে পারে। স্টেশনের সময়সূচি অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে পারবেন তাঁরা।
পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন থেকে বারাণসী পৌঁছানোর সংযোগ পাওয়া যাবে। কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শনে হবে উপকার। তাজমহলের পাশাপাশি আগরা ও আশপাশের ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ থাকবে। বৃন্দাবন, মথুরা যেতে হলে পৃথক পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হবে। এই ট্রেনের স্টপেজ  দৌসা, বান্দিকুই ও খাতিপুরা স্টেশন রাজস্থানের বিভিন্ন ধর্মীয় ও পর্যটনস্থলে যাওয়ার সংযোগ তৈরি আছে। জয়পুর থেকে অন্য তীর্থে যেতে অবশ্যই পরবর্তী যাতায়াতের পরিকল্পনা প্রয়োজন।

সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন ,
"পুরুলিয়া ও কলকাতার যাত্রীদের সুবিধার্থে সাঁতরাগাছি থেকে পুরুলিয়া হয়ে জয়পুরগামী একটি নতুন সাপ্তাহিক ট্রেন চালু হচ্ছে।।ট্রেনটির ফলে রাজস্থানের ব্যবসায়ী, খাটু শ্যামজি মন্দিরের পুণ্যার্থী এবং কলকাতা যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে।বন্দে ভারত ট্রেনের মতো এটি লাভজনক হওয়ার আশা করা হচ্ছে, পাশাপাশি আজমের স্পেশাল ট্রেনটিকেও স্থায়ী করার দাবি জানানো হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "হাওড়া স্টেশনের ভিড় সামলাতে রেল সাঁতরাগাছিকে কেন্দ্র করে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম নতুন রেললাইনের কাজ পেপার ওয়ার্কের প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত বাস্তবে শুরু হতে চলেছে। এছাড়া, দক্ষিণ ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়া রোগীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে একটি নতুন ট্রেনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।"