সাধারণ খবর সংস্কৃতি ব্লক

থেমে গেল কৃষ্ণের বাঁশি, প্রয়াত বাঘমুন্ডির প্রবাদপ্রতিম ছৌ শিল্পী শশধর মাহাতো

১৯৭২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে একাধিকবার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। লন্ডন, প্যারিস, হল্যান্ড, স্পেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইরান, বুলগেরিয়া, জাপান, নেপাল ও ভুটানে ছৌ নাচ পরিবেশন করেছেন তিনি।
থেমে গেল কৃষ্ণের বাঁশি, প্রয়াত বাঘমুন্ডির প্রবাদপ্রতিম ছৌ শিল্পী শশধর মাহাতো

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুন্ডি :

বিদেশের মঞ্চে পুরুলিয়ার ছৌ নাচকে তুলে ধরেছিলেন তিনি। কখনও কৃষ্ণের ভূমিকায় বাঁশি হাতে, কখনও রামচন্দ্রের সাজে মাতিয়ে দিতেন দর্শকদের। সেই শিল্পী শশধর মাহাতো আর নেই। শনিবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তাঁর প্রয়াণে পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতির জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাঘমুন্ডির ঘোড়াবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা শশধর দীর্ঘদিন ধরে বীররসের ছৌ নাচের চর্চা করেছেন। শুধু বাংলার মাটিতে নয়, বিদেশের মঞ্চেও পুরুলিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যকে তুলে ধরেছেন তিনি। ১৯৭২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে একাধিকবার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। লন্ডন, প্যারিস, হল্যান্ড, স্পেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইরান, বুলগেরিয়া, জাপান, নেপাল ও ভুটানে ছৌ নাচ পরিবেশন করেছেন তিনি।

শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে গম্ভীর সিং মুড়া স্মৃতি পুরস্কার পান শশধর। এ ছাড়াও পেয়েছেন একাধিক সম্মান। তবে বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেছেন তিনি। ছৌ নাচের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা থাকলেও পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সেই ধারার চর্চা আর সেভাবে এগোয়নি। তাঁর ছেলে এবং নাতিদের কেউই বর্তমানে এই নাচের সঙ্গে যুক্ত নন।

শশধরের মৃত্যুতে পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্পীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়ে, পুত্রবধূ ও নাতিদের রেখে গিয়েছেন তিনি। রবিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।