অন্যান্য ব্লক

১৫ হাজার কোটির ইস্পাত কারখানা ঘিরে অশান্তি রঘুনাথপুরে, জনশুনানি বাতিলের দাবি

শাকম্ভরী গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট ঘিরে আশার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও। বুধবার এই প্রকল্পের জনশুনানিকে কেন্দ্র করে রঘুনাথপুর মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে উত্তেজনা ছড়ায়।
১৫ হাজার কোটির ইস্পাত কারখানা ঘিরে অশান্তি রঘুনাথপুরে, জনশুনানি বাতিলের দাবি

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান হবে ১২ হাজার মানুষের। রঘুনাথপুরের দুরমুট ও হুড়রা এলাকায় ৫১২ একর জমিতে শাকম্ভরী গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট ঘিরে আশার পাশাপাশি তৈরি হয়েছে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও। বুধবার এই প্রকল্পের জনশুনানিকে কেন্দ্র করে রঘুনাথপুর মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। জনশুনানিস্থলে ঢুকতে না পেরে বিক্ষোভ দেখান দূষণবিরোধী সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, জনশুনানি বাতিল করতে হবে।

রঘুনাথপুর মহকুমা দূষণ বিরোধী ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা মঞ্চের অভিযোগ, প্রস্তাবিত কারখানা এলাকার বাসিন্দাদের অন্ধকারে রেখে পুলিশি নিরাপত্তায় জনশুনানি করা হয়েছে। নিয়ম মেনে প্রচার না করা এবং প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শুনানির আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সংগঠনের আশঙ্কা, নতুন কারখানা হলে দূষণ বাড়বে, বাড়বে সিলিকোসিস-সহ নানা রোগের প্রকোপ। বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যতম আহ্বায়ক স্বদেশপ্রিয় মাহাত ও রাজেন টুডু।

অন্য দিকে, প্রশাসন ও শিল্প সংস্থার দাবি, দুরমুট ও হুড়রার ১০০ জন বাসিন্দাকে নিয়ে সুষ্ঠুভাবেই জনশুনানি সম্পন্ন হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার), রঘুনাথপুরের মহকুমাশাসক এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কর্তারা।

শিল্প সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় বলেন, “জনশুনানিতে এলাকার মানুষের যে সমস্ত প্রশ্ন ছিল, আমরা তার উত্তর দিয়েছি। কোনও প্রকল্প নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন বা সংশয় থাকতেই পারে। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং প্রকল্প সম্পর্কে তাঁদের বোঝানোই আমাদের লক্ষ্য। এই কারখানা গড়ে উঠলে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা যখন বুঝতে পারবেন যে এই প্রকল্প তাঁদের কাজের সুযোগ এনে দিতে পারে, তখন তাঁদের ক্ষোভও ধীরে ধীরে মিটে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।” তাঁর বক্তব্য, এলাকার মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের যে সম্ভাবনা তৈরি হবে, সেটিও বাসিন্দাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।