নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
পশ্চিমবঙ্গের তৃতীয় বৃহত্তম কাপড় বাজার পুরুলিয়া কাপড় গলির ব্যবসায়ীদের আবেদনে কিছুটা নরম প্রশাসন। এখানে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ঘিরে গত শুক্রবার থেকেই টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে উচ্ছেদ অভিযানের সময়সীমা আরও ৩৬ ঘণ্টা বাড়িয়ে দিল পুরুলিয়া মহকুমা প্রশাসন। আগামী সোমবারের আগে সেখানে কোনো বুলডোজার চলবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে অবৈধ নির্মাণ নিজেরাই সরাতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।
শহরের এই ব্যস্ততম বাজারে ফুটপাত, নর্দমা ও রাস্তা দখল করে থাকা বেআইনি পসরা সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসন কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকেই হুলুস্থুল পড়ে যায় এলাকায়। শনিবার সকাল থেকেই অনেক ব্যবসায়ীদের নিজেদের উদ্যোগেই বর্ধিত অংশ ভাঙতে শুরু করেছেন।
ব্যবসায়ী সুশীল ভার্মা বলেন, "প্রশাসন যে আমাদের অনুরোধ শুনে সময়টা একটু বাড়াল, তার জন্য ধন্যবাদ। তবে পেটের দায়েই মানুষ রাস্তার ধারে একটু বাড়িয়ে দোকান দেয়। আচমকা এই উচ্ছেদে আমাদের ব্যবসা পুরো লাটে উঠবে। জিনিসপত্র সরানোর সুযোগ পেলেও, আগামী দিনে আমাদের রুজি-রোজগারের বিকল্প কী হবে, তা নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি। প্রশাসনের উচিত আমাদের পুনর্বাসনের কথা ভাবা।"
দোকানদার বিশ্বরূপ দত্ত বলেন, "শহরের যানজট কমানো বা রাস্তা পরিষ্কার করার এই উদ্যোগকে আমরা কোনোভাবেই বিরোধিতা করছি না। এটা শহরের ভালোর জন্যই হচ্ছে। তবে আমাদেরও তো পরিবার আছে। এই ৩৬ ঘণ্টা সময় পাওয়ায় আমাদের সুবিধা হলো, আমরা নিজেদের উদ্যোগে বেআইনি অংশগুলো সরিয়ে নিতে পারছি। প্রশাসনের এই মানবিক মনোভাবকে সাধুবাদ জানাই, তবে আমাদের অনুরোধ—উন্নয়নের পাশাপাশি যেন ছোট ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি না পড়ে।"
সোমবার থেকে পুরুলিয়া পুরসভা ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই উচ্ছেদ অভিযানে নামবে। একদিকে শহরের আধুনিকীকরণ, অন্যদিকে শত শত ব্যবসায়ীর রুটিরুজি এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে পুরুলিয়া প্রশাসন আগামী সোমবার কতটা মসৃণভাবে এই অভিযান শেষ করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।