স্বাস্থ্য শহর

শোকজ সুপার সহ ৮ জনকে, পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বে সিএমওএইচ

শোকজ করা হলো পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার সহ ৮ জনকে। বৃহস্পতিবার শোকজ করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
শোকজ সুপার সহ ৮ জনকে, পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বে সিএমওএইচ

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

শোকজ করা হলো পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার সহ ৮ জনকে। বৃহস্পতিবার শোকজ করেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। 
সাংসদের ক্ষোভের আঁচ লাগলো  স্বাস্থ্য প্রশাসনেও। বিজয়া দশমীর রাতে পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসের নোংরা-আবর্জনা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তার পরেই হাসপাতাল পরিদর্শনের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে পৌঁছান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অশোক বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) উৎকর্ষ সিং। কিন্তু তাঁদের পরিদর্শনের সময় মেডিক্যাল কলেজের সুপারের অফিসে দেখা মেলেনি মেডিক্যাল কলেজের  সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল সুকোমল বিষয়ীর। তিনি ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বেশ কিছুক্ষণ সুপারের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি। নজরে আসে নানা অব্যবস্থাও। বিভিন্ন জায়গার ছবি তোলেন আধিকারিকেরা।

রোগীর আত্মীয় গণেশ চন্দ্র মাহাতো বলেন  "উপর তলায় ময়লা জমার পাশাপাশি সকালে একবার ঝাড়ু দেওয়ার কাজও চলছে। এত রোগী সামলে কর্তৃপক্ষ কাদের ছেড়ে কাদের পরিষেবা দেবেন? আমি গত দু'দিন ধরে সকালে পরিষ্কার করতে দেখেছি, তবে তার আগের পরিস্থিতি আমার জানা নেই"

পরিদর্শনের আগেই হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনা পরিষ্কারে নামে পুরসভার কর্মীরা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও সাফাইকর্মীদের পরিষ্কারের কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই তৎপরতা কি শুধু পরিদর্শন ঘিরেই? হাসপাতাল চত্বরের নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল। নিকাশির উপযুক্ত বন্দোবস্ত না থাকায় নোংরা জল রাস্তায় উঠে আসে। নিয়মিত সাফাই না হওয়ার ছবিও স্পষ্ট। বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট শেডে জমে রয়েছে প্লাস্টিকে মোড়া আবর্জনা। সেই ছবি দেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কাজ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পুরুলিয়া পুরসভার। সেই কাজ নিয়মিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরের যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগের প্রবণতা বন্ধ করতে সাধারণ মানুষের সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন রোগীর আত্মীয়রাই।

সিএমওএইচ ডাঃ অশোক বিশ্বাস  বলেন, "হাসপাতাল চত্বরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক আউটলেট না থাকা এবং আবর্জনা জমার কারণে পুরো ড্রেন পুনর্গঠনের জন্য পূর্ত দপ্তরের কাছে রিভাইজড রেট অনুযায়ী নতুন ফাইল পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত টয়লেট তৈরি করা এবং বায়োমেডিকেল ওয়েস্ট ব্যবস্থার উন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে ও নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে"।

বুধবার রাতে এক বিজেপি নেতার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালের সদর ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। সেখানকার নোংরা-আবর্জনা দেখে ক্ষুব্ধ হন তিনি। অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ে এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ীকে ফোন করলেও তাঁর একের পর এক অজুহাতে বিরক্ত হন সাংসদ। এর পরেই সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ফোন করে হাসপাতালের বেহাল দশার কথা জানান তিনি। এমনকি, কর্তৃপক্ষ পরিষ্কার না করলে নিজেই সাফাইয়ের কাজে হাত লাগাবেন বলেও জানান সাংসদ।সুপারকে কালিম্পংয়ে বদলির সুপারিশও করেছেন জ্যোতির্ময়। সূত্রের খবর, শীঘ্রই এ বিষয়ে নির্দেশ জারি হতে পারে।