উৎসবের আলোয় শহর

ঝালদায় প্রথমবার মাতৃশক্তির আরাধনায় মহিলারা, চমকে দিলেন বিসর্জনে

এবছর সম্পূর্ণ পাড়ার মহিলাদের উদ্যোগেই প্রথমবার এই দুর্গোৎসবের সূচনা । স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পাঁচদিনের পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পর বিজয়া দশমীর নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় দেখা গেল এক অনন্য ঐতিহ্যবাহী ছবি।
ঝালদায় প্রথমবার মাতৃশক্তির আরাধনায় মহিলারা, চমকে দিলেন বিসর্জনে

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:

উচ্চস্বরের ডিজের দাপট এড়িয়ে বিশুদ্ধ ঢাকের বাজনার তালে এবং পরিবেশবান্ধব ও শৃঙ্খলিত উপায়ে সম্পন্ন হলো ঝালদার মণ্ডপপাড়া মাতৃশক্তি সার্বজনীন দুর্গাপুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন। আনন্দ আর বিষাদের মিশ্রিত আবহাওয়ায় বিদায়ের বেলাতেও মণ্ডপপাড়ার নারীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এবছর সম্পূর্ণ পাড়ার মহিলাদের উদ্যোগেই প্রথমবার এই দুর্গোৎসবের সূচনা । স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পাঁচদিনের পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পর বিজয়া দশমীর নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় দেখা গেল এক অনন্য ঐতিহ্যবাহী ছবি।

প্রশাসনের নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বছর নিরঞ্জনে ডিজে বা উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্সের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা হয়। পরিবর্তে সাবেকি ঢাকের বোল আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঝালদার রাজপথ। এ প্রসঙ্গে কমিটির সভানেত্রী মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "প্রশাসনের নির্দেশ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। ডিজের উচ্চ শব্দকে দূরে সরিয়ে রেখে আমরা ঢাকের আসল বাজনার মাধুর্যকেই প্রাধান্য দিয়েছি। কিছু সাধারণ সাউন্ড ব্যবহার করা হলেও তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত ছিল।"

প্রথম বছরের এই সফল আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বসিত উদ্যোক্তারা। মাকে বিদায় জানানোর বেদনা থাকলেও, নারীশক্তির এই অভাবনীয় সাফল্য আগামী বছরের পুজোকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। মৌসুমী দেবী আরও বলেন, প্রথম বছর সবার সহযোগিতায় পুজো খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। মাকে বিদায় দিতে মন খারাপ হলেও, ইতিমধ্যেই আগামী বছরের পুজো নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছি।