অন্যান্য ব্লক

১৭টি বুনো হাতির বিশাল দল ঝালদার গ্রামে, চরম আতঙ্ক

এলাকাবাসী অশ্বিনী মাহাতো জানান, "শাবক সহ হাতি থাকায় বিপদ বেশি। গ্রামের মানুষ যাতে জঙ্গল থেকে দূরে থাকে, তার জন্য মাইকিং চলছে। বন দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে, ওরা ঠিকভাবে দলটাকে বের করে দেবে।"
১৭টি বুনো হাতির বিশাল দল ঝালদার গ্রামে, চরম আতঙ্ক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:

একটা দুটো নয়, শাবক সহ ১২ থেকে ১৭টি বুনো হাতির একটি দল একেবারে লোকালয়ের কাছে। কখন তাদের কী মতিগতি বোঝা দায়! রবিবার ভোর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরুলিয়ার ঝালদা বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায়। ঝালদা-বাঘমুন্ডি রাজ্য সড়কের পাশে জারগো বুড়ির জঙ্গলে জাঁকিয়ে বসেছে হাতির দল। গোটা গ্রাম জুড়ে ছড়িয়েছে প্রবল আতঙ্ক।
ঘটনার খবর চাউর হতেই জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন কৌতূহলী স্থানীয় মানুষজন। অতিউৎসাহী জনতার আনাগোনার কারণে যাতে বড়সড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি ময়দানে নামে ঝালদা থানার পুলিশ। পরিস্থিতির গাম্ভীর্য বিচারে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

হাতির গতিবিধির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছেন ঝালদা ও কোটশিলা বনাঞ্চলের আধিকারিকরা। পুরুলিয়া বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক নজরদারি চালাচ্ছেন। অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্পূর্ণ তৈরি রাখা হয়েছে বিশেষ হুলা পার্টি। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে মাইক নিয়ে অনবরত প্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে গ্রামবাসীরা কোনোভাবেই জঙ্গলের সীমানায় পা না দেন।

স্থানীয়বাসিন্দা যতীন মাহাতো বলেন, "হঠাৎ করে গ্রামের পাশে এতগুলো হাতি চলে আসায় ভয় তো লাগেই। তবে ফরেস্টের লোক আর পুলিশ যেভাবে সকাল থেকে পাহারা দিচ্ছে, তাতে আমরা কিছুটা আশ্বস্ত।"

এলাকাবাসী অশ্বিনী মাহাতো জানান, "শাবক সহ হাতি থাকায় বিপদ বেশি। গ্রামের মানুষ যাতে জঙ্গল থেকে দূরে থাকে, তার জন্য মাইকিং চলছে। বন দপ্তর এবং পুলিশ প্রশাসনের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে, ওরা ঠিকভাবে দলটাকে বের করে দেবে।"


বন বিভাগ সূত্রের খবর, দিনভর হাতিগুলি জারগো বুড়ির জঙ্গলেই শান্ত ছিল এবং এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। আলো আঁধারির সুযোগ নিয়ে সন্ধ্যার পর হস্তিনী ও শাবক-সহ পুরো দলটিকে নিরাপদে লোকালয় সীমানা থেকে গভীরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বন দপ্তর।