নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
কয়েক দিনের অসহনীয় দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি পেল পুরুলিয়া। ২৭ মে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় এক ধাক্কায় অনেকটাই নেমে গেল তাপমাত্রা। এ দিন জেলার গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬.৮১ মিলিমিটার। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং সর্বনিম্ন ২১.০ ডিগ্রিতে।
কৃষি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলরামপুরে—২৪.২ মিমি। জয়পুরে ১৯.৬ মিমি এবং বাঘমুণ্ডিতে ১৯.২ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। দুপুরের পর থেকেই কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। তারপরই শুরু হয় দমকা হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝড়-বৃষ্টি।
মাত্র এক দিন আগেও জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৮.৫ ডিগ্রি। সেই তুলনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দিনের পারদ প্রায় ৪ ডিগ্রি এবং রাতের তাপমাত্রা সাড়ে ৭ ডিগ্রিরও বেশি কমে গিয়েছে। ফলে ভোর ও সকালের আবহাওয়ায় ফিরেছে বহু প্রতীক্ষিত স্বস্তি।
গত কয়েক দিন ধরে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ‘রিয়েল ফিল’ তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছিল। গরম ও গুমোট অস্বস্তিতে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়েছিলেন জেলাবাসী। বুধবারের এই বৃষ্টি সেই পরিস্থিতি থেকে সাময়িক মুক্তি দিল।
তবে ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে কোথাও কোথাও দমকা হাওয়ার প্রভাবও দেখা গিয়েছে। যদিও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণেই এই কালবৈশাখী। আগামী কয়েক দিনেও বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আপাতত তীব্র দাবদাহ থেকে খানিকটা স্বস্তি মিলতে পারে বলেই আশা জেলাবাসীর।