নিজস্ব প্রতিনিধি, নিতুড়িয়া:
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে গাছতলাতেই চলছে একরত্তি শিশুদের শৈশবের পঠনপাঠন। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ, এমনকি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পুষ্টিকর রান্নাটাও হয় খোলা আকাশের নিচে, বড় কোনো গাছের ছায়ায়। পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া ব্লকের পারবেলিয়া গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঢেকে রয়েছে এমনই চরম অব্যবস্থার অন্ধকারে।
২০১২ সাল থেকে টানা ১২ বছর ধরে ব্লকের দুয়ারে দরবার করেও মেলেনি মাথার ওপরের একটা আস্ত ছাদ। প্রশাসনিক উদাসীনতার এই ছবি সম্প্রতি চাক্ষুষ করে হতবাক হয়ে যান রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি। সরেজমিনে কেন্দ্রটি পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার কর্মী ও সহায়িকাদের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা শোনেন তিনি। শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা এবং খোলা জায়গায় রান্নায় স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন বিধায়ক।
প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রীতাকে পাশ কাটিয়ে এবার নিজের বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকেই দ্রুত ওই কেন্দ্রের রান্নাঘরের জন্য পাকা ছাদ বানিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একই সাথে কেন্দ্রটির নিজস্ব একটি স্থায়ী ভবনের ব্যবস্থা করার জন্যও প্রশাসনিক স্তরে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি জানান, "শিশুদের এই চরম কষ্টের চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমার তহবিল থেকে দ্রুত রান্নাঘরের আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্রটি যাতে নিজস্ব ভবন পায়, তার জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমি করব।"