নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
পুরসভার ব্যয় বরাদ্দ সংক্রান্ত আলোচনায় পূর্বতন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে বিধানসভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। শহরের পানীয় জল সমস্যা থেকে শুরু করে আবাসন প্রকল্প ও প্ল্যান পাসের অনিয়ম বহুবিধ ইস্যুতে পুরসভার ভূমিকা ও তদানীন্তন রাজ্য সরকারের নীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান তিনি।
নতুন পুরসভা গঠনের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া এবং পুরনো পুরসভাগুলির সীমানা না বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। এর ফলে নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
২০২১ সালের আগস্ট মাস থেকে ফ্ল্যাট, মার্কেট কমপ্লেক্সের প্ল্যান অনলাইনে জমা দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। কিন্তু বিধায়কের অভিযোগ, কীভাবে নিয়মের তোয়াক্কা না করে অফলাইনে ব্যাক-ডেটে প্ল্যান জমা দেখানো হয়েছে? পাশাপাশি তৃণমূল আমলে কাটমানি চলতো ৭৫:২৫ রেশিওতে, কটাক্ষ সুদীপের। তাঁর ব্যাঙ্গ, ৭৫ ভাগ যেতো কালীঘাটে।
মিউনিসিপাল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া, কর্মচারীদের পদমর্যাদা ও সময়মতো যথাযথ বেতন না পাওয়া নিয়ে বিধানসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পুরুলিয়ার বিধায়ক । কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মধ্যপ্রদেশের অম্বিকানগরের মতো শহরগুলি কীভাবে জাতীয় স্তরে সেরা পুরস্কার পাচ্ছে তার উদাহরণ টেনে আনেন । তার বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের শহরগুলির বেহাল পরিচ্ছন্নতা এবং ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতির চিত্র তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, "পুরসভাগুলিতে কাজের স্বচ্ছতা সম্পূর্ণ উধাও। তৃণমূল আমলে শাসকদলের ক্যাডার পোষার আখড়ায় পরিণত হয়েছিল পুর প্রশাসনিক ভবনগুলি, যা সাধারণ মানুষের পরিষেবা পেতে বাধা সৃষ্টি করেছে বারংবার। "
নির্মল বাংলা' প্রকল্পের ব্যর্থতা তুলে ধরে পুরুলিয়াসহ বিভিন্ন শহরে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ বন্ধে স্বচ্ছ ভারত মিশন-এর সঠিক প্রয়োগের দাবি জানান সুদীপ। সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণের গুরুত্ব নির্দেশ করেন।
বিধায়ক বলেন, পুরুলিয়া শহরের মানুষের মূল সমস্যা পানীয় জল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও জাইকা প্রকল্পের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহের কাজ কেন অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে, তা নিয়ে তাঁর প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হয় পূর্বতন সরকারের নীতি।
আবাসন প্রকল্পে সাধারণ ও প্রকৃত দরিদ্র উপভোক্তারা যেন সরকার নির্ধারিত ৩,৬৮,০০০ টাকার সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করার দাবিও তোলেন বিধায়ক । নতুন সরকারের কাছে ফর্ম বিক্রি বা উপভোক্তা বাছাইয়ে যে কোনো ধরণের দুর্নীতির অভিযোগ কঠোরহস্তে বন্ধের আর্জি জানান। একেবারে শেষভাগে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি একটি গাছ মায়ের নামে রোপণ অভিযান সফল করা এবং সবুজ নগরায়ণের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন বিধায়ক।