সাধারণ খবর

এক সপ্তাহে পুরুলিয়ায় লাখ পার করল মোদির স্বপ্নের প্রকল্প জনভাগীদারি, এসটি শংসাপত্রর চাহিদা তুঙ্গে

১৮ই মে পুরুলিয়া জেলা শাসক দপ্তর থেকে একটি সুসজ্জিত ট্যাবলো ফ্ল্যাগ অফ করার মাধ্যমে যে ‘জনভাগীদারি অভিযান’ এর সূচনা হয়েছিল, তা এক সপ্তাহ ধরে জেলা জুড়ে বিপুল সাড়া ফেলেছে। জেলার প্রান্তিক এলাকাগুলোতে এক সপ্তাহে মোট ১৩২টি বিশেষ ক্যাম্প করা হয়, সেগুলো থেকে প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার মানুষ সরাসরি বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও সহায়তার সুফল পেয়েছেন।
এক সপ্তাহে পুরুলিয়ায় লাখ পার করল মোদির স্বপ্নের প্রকল্প জনভাগীদারি,  এসটি শংসাপত্রর চাহিদা তুঙ্গে

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

জঙ্গলমহলের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সরকারি পরিষেবা ও সচেতনতা পৌঁছে দিতে নজিরবিহীন সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের  বিশেষ উদ্যোগ। গত ১৮ই মে পুরুলিয়া জেলা শাসক  দপ্তর থেকে একটি সুসজ্জিত ট্যাবলো ফ্ল্যাগ অফ করার মাধ্যমে যে ‘জনভাগীদারি অভিযান’ এর সূচনা হয়েছিল, তা এক সপ্তাহ ধরে জেলা জুড়ে বিপুল সাড়া ফেলেছে। জেলার প্রান্তিক এলাকাগুলোতে এক সপ্তাহে মোট ১৩২টি বিশেষ ক্যাম্প করা হয়, সেগুলো  থেকে প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার মানুষ সরাসরি বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও সহায়তার সুফল পেয়েছেন।
জেলা শাসক সুধীর কোন্থম বলেন, এই অভিযানে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। ব্লকভিত্তিক পরিসংখ্যানে ভিড়ের নিরিখে সবাইকে টেক্কা দিয়েছে মানবাজার ২ নম্বর ব্লক। সেখানে আয়োজিত শিবিরগুলোতে রেকর্ড ২৭,০০০ মানুষের সমাগম হয়। এর পরেই ছিল কাশিপুর ব্লক। সেখানে প্রায় ২৩,০০০ মানুষ অংশ নেন। এছাড়াও পুঞ্চা ব্লকে প্রায় ১৩,০০০ বাসিন্দা এই অভিযানের ক্যাম্পগুলোতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেন। অভিযানের দিনগুলোতে উপজাতি সমাজের বাসিন্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা গেছে কাস্ট সার্টিফিকেট বা এসটি শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে। বিভিন্ন ক্যাম্প মিলিয়ে এই শংসাপত্রের জন্য মোট ৩৫৩টি আবেদন জমা পড়েছে।"

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিষেবার তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও। শিবিরগুলোতে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল,
১.উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে  রক্তাল্পতাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব রুখতে বিশেষ পরীক্ষা।
২.টিবি (যক্ষ্মা) স্ক্রিনিং : ঘরে ঘরে সচেতনতা ও প্রাথমিক লক্ষণ পরীক্ষা।
৩.আয়ুষ্মান ভারত কার্ড : প্রান্তিক মানুষের নিখরচায় চিকিৎসার অধিকার সুনিশ্চিত করতে অন-স্পট কার্ড তৈরির সুবিধা।

এছাড়াও জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ‘বন ধন যোজনা’ স্কিমে অন্তর্ভুক্তির জন্য ৮৯টি নতুন আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রত্যন্ত উপজাতি এলাকাগুলোতে আধার কার্ড তৈরি এবং সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যে দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল, এই শিবিরগুলোর মাধ্যমে তার দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১৫০ জন উপভোক্তা সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। সামগ্রিকভাবে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ এবং আইইসি অ্যাক্টিভিটির কাজের ভূয়সী প্রশংসা ও স্বীকৃতি দিয়েছে ট্রাইবাল ডিপার্টমেন্ট।

শুধু আবেদন জমা নেওয়াই নয়, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ক্ষোভ ও সমস্যার দ্রুত সমাধান করা। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জাতিগত শংসাপত্র পেতে অনেক বেশি সময় লাগছে এই মর্মে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছিল। কালক্ষেপ না করে শিবিরগুলোতেই ‘অন দ্য স্পট’  ভেরিফিকেশন বা নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়।

বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে আরও কিছু পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা উঠে আসে। সবচেয়ে বেশি লিঙ্কিং-এর সমস্যা‌‌। আধার কার্ডের সাথে অন্যান্য  পরিচয়পত্র সহজে লিঙ্ক করা যাচ্ছিল না বলে অনেকে অভিযোগ করেন ।সামাজিক নিরাপত্তা বার্ধক্য ভাতা  এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা স্কিমে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও কিছু জটিলতার অভিযোগ আসে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত বিষয়ের দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই অভিযানে রাস্তাঘাট কিংবা পানীয় জলের দাবি সংক্রান্ত পরিকাঠামোগত অভিযোগের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সামান্য।
এক সপ্তাহের এই বিশেষ ক্যাম্পেইন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি দপ্তরের দরজা বন্ধ হচ্ছে না। জেলা শাসক  জানিয়েছেন, ব্লক অফিস এবং মিউনিসিপ্যালিটি অফিসগুলোতে ‘জন মান’ এবং ‘ধরিত্রী আবা’ প্রোগ্রামের এই জনকল্যাণমূলক কাজগুলো ভবিষ্যতেও একইভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে। ফলে যে সমস্ত মানুষ এই এক সপ্তাহে শিবিরে পৌঁছাতে পারেননি, তাঁরা আগামীদিনেও স্থানীয় সরকারি অফিস থেকে এই সমস্ত সুবিধা পেয়ে যাবেন।