নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
জেলা জুড়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় কার্যত চোর ধরতেই কালঘাম ছুটছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের। ঝালদা, কোটশিলা বলরামপুর ও টামনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চোরদের নিশানায় পুরুলিয়া মফস্বল থানার নদীয়াড়া গ্রাম। এবার আর কোনো দোকান বা গৃহস্থের বাড়ি নয়, দুষ্কৃতীরা হানা দিল গ্রামের প্রাচীন রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে। মন্দিরের তালা ভেঙে বিগ্রহের গহনা থেকে শুরু করে কাঁসার বাসন ও বাদ্যযন্ত্র সব মিলিয়ে সর্বস্ব লুট করে চম্পট দিল চোরের দল। একের পর এক চুরির ঘটনায় নদীয়াড়া গ্রামসহ গোটা জেলা জুড়েই এখন তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের আবহ।
মন্দিরের সেবায়ত বলেন, "ভোরবেলা মন্দিরে এসে দেখি সব ফাঁকা। দরজার তালাগুলো ভাঙা, দানপাত্রটা ভেঙে সব টাকা পয়সা লুঠ করে নিয়েছে। ঠাকুরমশাইয়ের পুজো করার কাঁসার বাসনপত্র থেকে শুরু করে মন্দিরের সব বাজনা— কিচ্ছু রাখেনি। আমাদের নদীয়াড়া গ্রামে এই প্রথম নয়, এর আগেও বহুবার চুরি-ডাকাতি হয়েছে। আমরা আতঙ্কে আছি, পুলিশ প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিক"।
স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ কুমার গোপ জানান, "আমাদের গ্রামে বারবার কেন এইরকম চুরির ঘটনা ঘটছে? এর আগেও একাধিকবার এখানে চুরি-ডাকাতি হয়েছে, পুলিশ কোনো কিনারা করতে পারেনি। চোরদের সাহস এতটাই বেড়ে গেছে যে এবার খোদ মন্দিরে ঢুকে সব নিয়ে চলে গেল! আমরা চাই পুলিশ অবিলম্বে এই চুরির কিনারা করুক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক"।
উল্লেখ্য নদীয়াড়া গ্রামটি ঝাড়খণ্ডের খুব কাছে। চুরি করে সহজেই তুরন্ত ভিন রাজ্যে চলে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একের পর এক চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই রীতিমতো চিন্তিত জেলা পুলিশ প্রশাসন। কোনো সুসংগঠিত আন্তঃজেলা চোর চক্র এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সমস্ত থানার পুলিশকে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।