অন্যান্য

ভরদুপুরে বজ্রপাতের তাণ্ডবে মৃত ৩, জখম ২, স্কোয়াল ফ্রন্টে লন্ডভন্ড পুরুলিয়া

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুরুলিয়া মফস্বল থানার হুটমুড়া গ্রামের শেখ রহমতউল্লা (২৫), সাঁতুড়ির কাকুরকিয়ারির চৈতন ধীবর (৫৬) এবং বরাবাজারের কলমা গ্রামের নিমাই গরাঁই (৪৬)। দুর্যোগের খবর পৌঁছাতেই মৃতদের পরিবারের জন্য চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভরদুপুরে বজ্রপাতের তাণ্ডবে মৃত ৩, জখম ২, স্কোয়াল ফ্রন্টে লন্ডভন্ড পুরুলিয়া

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

সকালে মেঘলা আকাশ আর শীতল হাওয়া দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। কিন্তু জ্যৈষ্ঠের দুপুর গড়াতেই আচমকা ধেয়ে এল ভয়ঙ্কর স্কোয়াল ফ্রন্ট। মুহূর্তের মধ্যে কালো মেঘে ঢেকে গেল আকাশ। তারপরই বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং মুষলধারে বৃষ্টির দাপটে লন্ডভন্ড হয়ে গেল পুরুলিয়ার একাধিক এলাকা। সেই দুর্যোগেই জেলায় প্রাণ হারালেন তিনজন। আহত হয়েছেন আরও দু’জন। বজ্রাঘাতে মারা গিয়েছে পাঁচটি গবাদি পশুও।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুরুলিয়া মফস্বল থানার হুটমুড়া গ্রামের শেখ রহমতউল্লা (২৫), সাঁতুড়ির কাকুরকিয়ারির  চৈতন ধীবর (৫৬) এবং বরাবাজারের কলমা গ্রামের নিমাই গরাঁই (৪৬)। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল দুর্যোগের সময় তিনজনেই ঘরের বাইরে ছিলেন। আচমকাই বজ্রপাতের কবলে পড়েন তাঁরা। বরাবাজারে নিমাই গরাঁইয়ের সঙ্গে আরও দু’জন আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে রঘুনাথপুর থানার বেলডাঙা গ্রামে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে পাঁচটি গবাদি পশুর।

কৃষি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জেলায় গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩২.৪২ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নিতুড়িয়ায়—৬৪.২ মিমি। হাতোয়াড়ায় ৬২.২ মিমি এবং পাড়ায় ৫৫.৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রকৃতির রুদ্ররূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

এ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে আসে ৩১.০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.৫ ডিগ্রি। মাত্র এক দিন আগেও যেখানে রাতের পারদ ছিল ২৮.৯ ডিগ্রি, সেখানে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির জেরে তা প্রায় ১০ ডিগ্রি কমে যায়। ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিও অনেকটাই কেটে যায়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এ দিনের ঘটনাটি সাধারণ কালবৈশাখীর তুলনায় অনেকটাই আলাদা। স্কোয়াল ফ্রন্টের ঠান্ডা ও উষ্ণ বায়ুর সংঘর্ষে দীর্ঘ একটি রেখা বরাবর হঠাৎ করে প্রবল ঝড়, বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকায় একযোগে দুর্যোগ নেমে আসে। শুক্রবার পুরুলিয়ায় ঠিক তেমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

সকাল থেকেই আবহাওয়া দফতরের তরফে মোবাইলে বারবার বজ্রবিদ্যাৎসহ ঝড়-বৃষ্টির সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ আসা দুর্যোগের তীব্রতা বহু মানুষকে প্রস্তুতির সুযোগটুকুও দেয়নি।

দুর্যোগের খবর পৌঁছাতেই মৃতদের পরিবারের জন্য চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।