নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার:
একটি পাগলা কুকুরের আতঙ্কে গত দু’দিন ধরে কার্যত ঘরবন্দি পুরুলিয়ার মানবাজারের বনকাটি ও বনশোল গ্রামের মানুষ। ইতিমধ্যেই এক মহিলাসহ অন্তত ৮ জন কুকুরের কামড়ে জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু এই চরম আতঙ্কের আবহেও আইনি জটিলতার কারণে সময়মতো মিলল না সরকারি সাহায্য। প্রশাসনের দাবি, পাগলা কুকুর কোনো বন্যপ্রাণী নয়, তাই তাকে ধরার দায়িত্ব বন দফতরের দায়িত্বের পড়ে না!
আইন অনুযায়ী, বন দফতর কেবল বন্যপ্রাণী উদ্ধার বা খাঁচাবন্দি করতে পারে। কুকুর গৃহপালিত ও লোকালয়ের প্রাণী হওয়ায়, তাকে ধরার আইনি দায়িত্ব বন দফতরের নেই। অন্য দিকে, পঞ্চায়েত বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও এই ধরনের হিংস্র কুকুর চটজলদি ধরার কোনো আধুনিক পরিকাঠামো বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী নেই। ফলে দুই দফতরের এই আইনি টানাপোড়েনের মাঝখানে পড়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশো গ্রামবাসী।
২দিনে মোট ৮ জন জখম। সবাই মানবাজার গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। জলাতঙ্কের টিকা পেয়েছেন সবাই। গ্রামবাসীদের বারবার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত নিয়ম কিছুটা শিথিল করে মানবিকতার খাতিরে শেষমেশ কংসাবতী দক্ষিণ বন বিভাগের মানবাজার ১ রেঞ্জের কর্মীরা মাঠে নামেন। জাল নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা তাড়া করেও কুকুরটিকে খাঁচাবন্দি করা যায়নি। শেষমেশ পটকা ফাটিয়ে তাকে গ্রাম থেকে সাময়িকভাবে দূরে তাড়ানো হয়েছে।