সাধারণ খবর ব্লক

সাঁতুড়ির অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দেওয়া হয় পচা ডিম, তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ, আলোচনার পরেও মিটলো না সমস্যা

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিষেবা এবং খাবারের মান ঘিরে ক্ষোভের আগুনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরুলিয়া জেলার সাঁতুড়ি ব্লকের নামো কোটালডি গ্রাম। পচা ডিম পরিবেশন, খাবারের নিম্নমান এবং কর্মী অনুপস্থিতির মতো একাধিক অভিযোগ তুলে সোমবার কেন্দ্রটিতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাঁতুড়ির অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দেওয়া হয় পচা ডিম, তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ, আলোচনার পরেও মিটলো না সমস্যা

 

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, সাঁতুড়ি:

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিষেবা এবং খাবারের মান ঘিরে ক্ষোভের আগুনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরুলিয়া জেলার সাঁতুড়ি ব্লকের নামো কোটালডি গ্রাম। পচা ডিম পরিবেশন, খাবারের নিম্নমান এবং কর্মী অনুপস্থিতির মতো একাধিক অভিযোগ তুলে সোমবার কেন্দ্রটিতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে সাঁতুড়ি থানার পুলিশ ও আইসিডিএস  আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কাটেনি আইনি ও প্রশাসনিক জট। গ্রামবাসীদের সাফ বার্তা,অভিযুক্ত কর্মীকে অপসারণ না করা পর্যন্ত খুলবে না কেন্দ্রের তালা।
স্থানীয় গ্রামবাসী সোনালী তন্তুবাই বাউরি  বলেন,
"আমাদের ছোট ছোট শিশুদের স্বাস্থ্যের সাথে প্রতিদিন ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। পঁচা ডিম আর খারাপ খাবার খেয়ে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কর্মীকে একাধিকবার বলা সত্ত্বেও কোনো লাভ হয়নি। উল্টে আমাদের ওপর চড়াও হওয়া হতো। বাধ্য হয়েই আমরা আজ আন্দোলনে নেমেছি। যতক্ষণ না এই কর্মীকে এখান থেকে সরানো হচ্ছে, আমরা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের তালা খুলতে দেব না।"


আইসিডিএস সুপারভাইজার নিকিতা রানা জানান,
"খাবারের মান এবং কর্মীর উপস্থিতি নিয়ে গ্রামবাসীদের থেকে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি এবং তাদের সাথে আলোচনা করে বরফ গলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিভাগীয় তদন্ত ছাড়া হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। পুরো বিষয়টি জেলা স্তরের আধিকারিকদের জানানো হচ্ছে, তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মধুমিতা রায় বলেন,
"আমার বিরুদ্ধে ওঠা পঁচা খাবার দেওয়া বা গাফিলতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। সেই সুযোগে কিছু লোক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রটিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এমনকি আমাদের বয়স্ক সহায়িকার উপর গ্রামবাসীরা চড়াও হয়ে মারধরও করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"
পুলিশ এবং আইসিডিএস সুপারভাইজারের উপস্থিতিতে দফায় দফায় আলোচনা হলেও বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অনড়। আপাতত কেন্দ্রটি তালাবন্ধ অবস্থাতেই রয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ওই এলাকার শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা পরিষেবা। আইসিডিএস বিভাগ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে পরিস্থিতির স্বাভাবিকতায় উদ্যোগী না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।