নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
রাজ্য বাজেটে পুরুলিয়ায় বিমানবন্দরের কথা ঘোষণার পর ছররার সেই পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ জেলা প্রশাসনকে নিয়ে পরিদর্শন করলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, ছিলেন জেলাশাসক সুধীর কোন্থম।
পুরুলিয়ার চোখ জুড়িয়ে যাওয়া ল্যান্ডস্ক্যাপ শুধু এই দেশের পর্যটকদেরই কাছে আকর্ষণীয় নয়, পুরুলিয়ার সৌন্দর্যে মুগ্ধ বিদেশীরাও। তাই একদিকে পর্যটন শিল্প, অন্যদিকে ভারী শিল্পের কথা মাথায় রেখে আকাশপথে এই পর্যটনের জেলাকে জুড়ে দেওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
অবশ্য এই বিমানবন্দর নিয়ে কিছুটা জমি জট রয়েছে। ওএলএস সমীক্ষায় বড় প্রতিবন্ধক একদিকে রেললাইন। সেই সঙ্গে হাইটেনশন লাইন।
রিজিওনাল কানেক্টিভিটি স্কিম-এর আওতায় দেশের প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী এলাকার সঙ্গে আকাশ পথে যোগাযোগ গড়ে তোলার কাজে 'উড়ান' নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কেন্দ্র। সেই প্রকল্পের আওতায় ছড়রায় প্রস্তাবিত ছোট বিমানবন্দর গড়ে উঠবে। কিন্তু তৃণমূলের জমানায় রাজ্যের তরফে সব রকম সহযোগিতা না মেলায় এই কাজে গতি ছিলো না।।ডবল ইঞ্জিন সরকার এসে এই কাজে গতি আনে।
সূত্রের খবর, খুব শীঘ্র দিল্লি থেকেও টিম আসবে। যদিও এর আগে বহুবার বিভিন্ন দপ্তর ও এজেন্সি বিমানবন্দর গড়ার লক্ষ্যে এই ছড়রা এয়ারস্ট্রিপ পরিদর্শন করে যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য বাজেটে এই বিমানবন্দর ঘোষণা হওয়ায় এই প্রকল্প যে বাস্তবের রূপ নেবে সেই বিষয়ে আশাবাদী পুরুলিয়া।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি এই রানওয়েটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও, এবার তাতেই নতুন জীবন ফুটবে। আন্তর্জাতিক মানের পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শুধু শিল্পায়নের বিকাশ ঘটবে না।
সময়ের সাশ্রয়ই হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র ব্যবসাতেও জেলায় পরিবর্তন আসবে।
সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,"পুরুলিয়ার সম্ভাবনা প্রচুর, শুধু দরকার ছিল সঠিক যোগাযোগের মাধ্যম। কেন্দ্র সরকারের 'উড়ান' প্রকল্পের অধীনে ছড়রার পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপটিকে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে উন্নীত করতে চলেছি। এতে পুরুলিয়া সরাসরি দেশের মূল মানচিত্রের সঙ্গে জুড়ে যাবে। স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।"
শিল্পপতি নরেশ আগরওয়াল ,জানান, "ব্যবসা ও পর্যটন শিল্পের জন্য এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠী জেলায় বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। ফলে হোটেল, ট্রাভেলস এবং শপিংমলের মতো ব্যবসাগুলি কয়েক গুণ গতি পাবে। আমরা একটি নতুন বাণিজ্যিক যুগের অপেক্ষায় আছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা সত্যজিৎ ওঝা বলেন,
"চিকিৎসা বা উচ্চশিক্ষার জরুরি প্রয়োজনে আগে আমাদের কলকাতা বা অন্যত্র যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। বিমানবন্দর চালু হলে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। আমাদের ঘরের দরজায় বিমান এসে পৌঁছাবে—একসময় যা স্বপ্নেও ভাবা যেত না, আজ তা সত্যি হতে চলেছে। জেলাবাসী হিসেবে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত"।
এই বিমানবন্দর গড়ে উঠলে রাজ্যের সপ্তম বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হবে। বিমানবন্দরের জন্য ওই এলাকায় প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে জ্বালানি নেওয়ার জন্য বিমান ওঠানামা করত। এই জমি ছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আওতায়। বাম আমলে এ বিষয়ে রাজ্যের কাছে কোন খোঁজই ছিল না। তৎকালীন বাঘমুন্ডির বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি
নেপাল মাহাতো বিধানসভায় এই বিষয়টি তুলে আনেন। তারপর
পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। হয় জমি হস্তান্তর। কিন্তু সেই বাম আমল থেকে তৃণমূল জমানা শুধু পরিদর্শনেই আটকে ছিল। এবার কাজের কাজ।