সাধারণ খবর ব্লক

সিপিএম সমর্থকের বাড়ির ১৫ বছরের আঁধার ১২ দিনে দূর করে 'ভগবান' শুভেন্দু

দীর্ঘ পনেরো বছরের অন্ধকার শেষে ঘরে আলো ফিরেছে। আর সবই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। কল্পনা আর কৃষ্ণ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন মুখ্যমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনায়। বলছেন শুভেন্দু যুগ যুগ জিয়ে।
সিপিএম সমর্থকের বাড়ির ১৫ বছরের আঁধার ১২ দিনে দূর করে 'ভগবান' শুভেন্দু

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুঞ্চা :

পনেরো বছর ধরে সন্ধ্যা নামলেই যেন থেমে যেত জীবন। লম্ফর ক্ষীণ আলো, সাপ-বিছের ভয়, অন্ধকারে হোঁচট খাওয়া সংসার, সবই ছিল নিত্যদিনের বাস্তব। প্রতিবেশীদের সঙ্গে জমি-বিবাদের জেরে একের পর এক আবেদন করেও ঘরে আসেনি বিদ্যুতের আলো। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হল মাত্র ১২ দিনে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবার-এ অভিযোগ জানানোর পর পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের লৌলাড়া গ্রামের সাইকেল মিস্ত্রি কৃষ্ণ বাউরির বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিল বিদ্যুৎ দপ্তর। কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলছেন কৃষ্ণ। অন্ধকার ঘোচানোর আনন্দের পাশে এত বছরের আতঙ্ক তাঁর কথায়। "নতুন সরকার এসেছে বলেই বিদ্যুৎ সংযোগ পেলাম।
কী যন্ত্রনা, কী কষ্ট ভোগ করেছি সে শুধু আমরা জানি। ছেলেটা লম্ফ-র আলোতে লেখাপড়া করতে পারেনি। আমাকে বলেছে বাবা আবার আমি লেখাপড়া করবো। আমাদের পরিবারের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে অজস্র ধন্যবাদ। ভগবানের পরে উনি।"

বিদ্যুৎ না থাকায় স্ত্রীকে সাপে কেটেছে, মেয়ে বিছের দংশনের শিকার হয়েছে, অন্ধকারে পড়াশোনা করতে না পেরে ছেলের মাধ্যমিকও ভাল হয়নি। এমনকি একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলেও যেতে হয়েছিল কৃষ্ণকে। তাঁর অভিযোগ, পাশের কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে বাধা দেওয়া হয়। আগের সরকারের সময়ে বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনও ফল মেলেনি। কৃষ্ণের পরিবারের দাবি, তাঁরা সিপিএম সমর্থক হওয়ায় আর বিরোধী পক্ষ তৃণমূলের প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁদের অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি।
চলতি মাসের  ১৩ তারিখ কৃষ্ণ বাউরির স্ত্রী ও মেয়ে কলকাতার সল্টলেকে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবার-এ যান। সেখানে তাঁদের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা না হলেও উপস্থিত আধিকারিকেরা দ্রুত পুঞ্চা থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে পরিবারের দাবি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুঞ্চা থানা, ব্লক প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ দপ্তর যৌথ ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে। বৃহস্পতিবার দুই পক্ষকে নিয়ে শুনানির পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবার পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষ্ণ বাউরির বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।

কৃষ্ণের মেয়ে কাকলী বাউরি বর্ধমানে একটি হাসপাতালে নার্স। তিনি বলেন, দাদুর নামে আগে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। বিল দিতে পারিনি বলে সংযোগ কেটে দেয়। ২০১৪ সালে বিপিএল তালিকাভুক্তরা বিনা পয়সায় বিদ্যুত সংযোগ নেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু খুঁটি পুঁততে এলে প্রতিবেশীরা দাবি করে ওদের জমি। মিথ্যা মামলায় বাবাকে জেলে পাঠায়। আমি লোকের বাড়িতে বসে পড়াশোনা করেছি। এখনও শান্তি নেই। ওরা ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।" থানায় অভিযোগ জানিয়ে রেখেছেন কাকলী।

দীর্ঘ পনেরো বছরের অন্ধকার শেষে ঘরে আলো ফিরেছে। আর সবই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। কল্পনা আর কৃষ্ণ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন মুখ্যমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনায়। বলছেন শুভেন্দু যুগ যুগ জিয়ে।