সাধারণ খবর ব্লক

পড়ে আছে জমি, নেই শিল্প, পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে যুবকরা, বিধানসভায় সরব ময়না মুর্মু

এলাকার সামগ্রিক থমকে থাকা উন্নয়নকে গতি দিতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করতে বিধানসভার অধিবেশনে সরব হলেন মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু।
পড়ে আছে জমি, নেই শিল্প, পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে যুবকরা, বিধানসভায় সরব ময়না মুর্মু

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার:

শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা কাটানোর পাশাপাশি দক্ষিণ পুরুলিয়ার মানবাজারে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জোরালো দাবি উঠলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। এলাকার সামগ্রিক থমকে থাকা উন্নয়নকে গতি দিতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করতে বিধানসভার অধিবেশনে সরব হলেন মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু।

অধিবেশনে শিল্পমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিধায়ক জানান, "মানবাজার এলাকায় বিপুল পরিমাণ পতিত জমি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আসা আকরিক লোহা বহনের প্রধান পথও মানবাজার। কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও জমির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেখানে কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি।

ফলাফলস্বরূপ, এলাকার বেকার যুবক-যুবতীরা পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "ঠিকা কাজের কঠোর নিয়মের কারণে পরিবারে কারো মৃত্যু হলেও ছুটি মেলে না, বাড়ি ফিরতে ৩-৪ দিন লেগে যায়। এই পরিযায়ী নির্ভরতা কমাতে মানবাজারে দ্রুত শিল্প স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি"।

শুধু শিল্পই নয়, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার দৈন্যদশাও বিধানসভায় তুলে ধরেন বিধায়ক। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি জানান,
"মানবাজার ১ ব্লকের বামনি-মাঝিহিড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চাকা নদীর ওপর কদমা ব্রিজটি বিগত দুই বছর ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ।
বাম আমলে শুরু হওয়া কেশরগড়িয়া সেতুর কাজ দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখনও অসমাপ্ত। দ্রুত এই দুই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি ।

শিক্ষার ক্ষেত্রে সাঁওতালি ভাষার প্রসারে এবং সঠিক পরিচালনার জন্য পৃথক ‘সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড’ গঠনের প্রস্তাব দেন ময়না মুর্মু। সেই সঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের  মাধ্যমে সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়ার দাবি তোলেন।

অন্যদিকে, এলাকার ভঙ্গুর স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়েও সরব হন তিনি। মানবাজার গ্রামীণ হাসপাতাল, ব্লক হাসপাতাল এবং স্থানীয় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির বেহাল অবস্থার কথা তুলে ধরে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে ইতিমধ্যেই একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বিধায়ক।