নিজস্ব প্রতিনিধি, কোটশিলা:
ধান জমির আলের মাটি ফেলাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের ঝামেলা। সেই ঝামেলা গিয়ে দাঁড়ায় মারামারিতে। ঘটনায় মর্মান্তিক পরিণতি। মৃত্যু হল এক মহিলার। জখম তার মেয়েও। অন্যদিকে হামলাকারী এক ব্যক্তিও কোদালের আঘাতে জখম হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কোটশিলা থানার মাতকুমা গ্রামে। পুলিশ জানায় , মৃতার নাম পেথরী কুমার (৪৫)। তার বাড়ি ওই মাতকুমা গ্রামেই।
মাতকুমা গ্রামের বাসিন্দা পরেশ কুমার পুলিশকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মাঠে ধান লাগাতে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী ও দুই কন্যা। ওই সময় তারা দেখেন প্রতিবেশী বিধান কুমার ও তার পরিবার নিজের মাঠের আলের মাটি কেটে তাদের জমিতে ছুঁড়ে ফেলছে। এই কাজের প্রতিবাদ করায় দুপক্ষের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ বিধান ও তার দুই ছেলে,স্ত্রী এবং বৌমা হামলা চালায়। এর পর বিধানের ছেলে শিবরাম কোদাল নিয়ে পেথরীর মাথায়, কানে ও কপালে কোপাতে শুরু করে। যার ফলে ওই মহিলা রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যান। ওই সময় মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে মেয়ে রুম্পা কুমারকে একটি অন্য কোদাল নিয়ে কোপাতে শুরু করে বিধান। অন্যদিকে পেথরী, তার স্বামী পরেশ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালোর অভিযোগ উঠে। এতে গুরুতর জখম হন বিধান কুমার। ঘটনার পর পরিবারের লোকজন জখমদের উদ্ধার করে কোটশিলা গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পেথরী কুমারকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিধান কুমারের আঘাত বেশি থাকায় পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন চিকিৎসক। এই ঘটনায় কোটশিলা থানায় দুটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।