রাজনীতি

মন্ত্রীর দেখানো পথে জেলার বাকি ৮ বিধায়কেরও সেবা কেন্দ্র, থাকছে অফিসও

রাজ্যে সরকার গঠনের দু'মাসের মাথায় দলের নির্দেশ, প্রতিটি বিজেপি বিধানসভা কেন্দ্রে খুলতে হবে একটি করে ‘বিধায়ক সেবা কেন্দ্র’। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পুরুলিয়া জেলায় ইতিমধ্যেই নেমেছেন বিজেপি বিধায়কেরা। কোথাও সেবা কেন্দ্র চালু হয়েছে, কোথাও শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে।
মন্ত্রীর দেখানো পথে জেলার বাকি ৮ বিধায়কেরও সেবা কেন্দ্র, থাকছে অফিসও

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

সরকারি দফতরের দরজায় ঘুরে ঘুরে সমস্যার সমাধান খুঁজতে না হয়, তার জন্যই এবার সংগঠনের নতুন কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে বিজেপি। রাজ্যে সরকার গঠনের দু'মাসের মাথায় দলের নির্দেশ, প্রতিটি বিজেপি বিধানসভা কেন্দ্রে খুলতে হবে একটি করে ‘বিধায়ক সেবা কেন্দ্র’। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পুরুলিয়া জেলায় ইতিমধ্যেই নেমেছেন বিজেপি বিধায়কেরা। কোথাও সেবা কেন্দ্র চালু হয়েছে, কোথাও শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একাধিক বিধায়ক কার্যালয়ও গড়ে তোলা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, সেবা কেন্দ্র শুধুমাত্র বিধায়কের বসার জায়গা নয়। সেখানে নিয়মিত দায়িত্বে থাকবেন বিধায়কের প্রতিনিধি ও দলীয় কর্মীরা। বিধায়ক উপস্থিত না থাকলেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে আবেদন, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা বা নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় দফতরে তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জেলার ৯  বিধানসভা কেন্দ্রেই এই পরিষেবা চালুর নির্দেশ রয়েছে।

▪️পুরুলিয়ায় সেই উদ্যোগে প্রথম সারিতেই রয়েছেন রাজ্যের পূর্ত ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা পাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক নদিয়ারচাঁদ বাউরি। পাহাড়িগোড়ায় ইতিমধ্যেই তাঁর সেবা কেন্দ্র চালু হয়েছে। ঘনিষ্ঠ মহলের ইঙ্গিত, রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকাতেও আরও একটি বিধায়ক কার্যালয় চালুর ভাবনা রয়েছে, যাতে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।

▪️পুরুলিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের সেবা কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে শহরের মধ্যবাজার এলাকায়। তাঁর নিজস্ব বাসভবন, হুটমুড়া এবং গোলকুণ্ডা মোড়েও পৃথক কার্যালয় রয়েছে।

▪️বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো সেবা কেন্দ্র গড়েছেন ঝালদা-১ ও বাঘমুন্ডি ব্লকের সংযোগস্থল জারগোয়। এর পাশাপাশি বাঘমুন্ডি ও ঝালদা শহরে তাঁর পৃথক কার্যালয় রয়েছে। আড়শা ব্লকের সিরকাবাদের আড়রা এলাকায় আরও একটি কার্যালয় তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।  মানুষ যাতে প্রশাসনের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে পারেন, সেই কাজেই সেবা কেন্দ্রকে ব্যবহার করা হবে।

▪️বলরামপুর ব্লক সদরের মাইতিবাঁধ এলাকায় দ্রুত গতিতে তৈরি হচ্ছে বিধায়ক জলধর মাহাতোর সেবা কেন্দ্র। একই সঙ্গে পুরুলিয়া শহরে সাংসদ কার্যালয়ের পাশেও নতুন কার্যালয় খোলা হচ্ছে। কাঁটাডিতে আগে থেকেই একটি কার্যালয় রয়েছে। আগস্ট থেকেই বলরামপুরের সেবা কেন্দ্র এবং পুরুলিয়া শহরের কার্যালয় চালু হওয়ার কথা।

▪️মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মুর সেবা কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে মহকুমাশাসকের দফতরের কাছে। ▪️জয়পুরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতো পুরুলিয়া-ঝালদা সড়কের ডুমুরডি মোড়ে নতুন সেবা কেন্দ্র গড়ছেন। বর্তমানে একই ভবনের একতলায় তাঁর কার্যালয় চলছে। ভবিষ্যতে কোটশিলা ও আড়শাতেও আলাদা কার্যালয় থাকবে।

▪️রঘুনাথপুরের বিধায়ক মামনি বাউরি নিতুড়িয়ার সরবড়ি মোড়ে সেবা কেন্দ্র চালু করেছেন। রঘুনাথপুর শহরে তাঁর একটি কার্যালয় রয়েছে। আগামী দিনে সাঁতুড়িতেও নতুন কার্যালয় খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। 

▪️কাশিপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদার সেবা কেন্দ্র রয়েছে কাশিপুরে। পাশাপাশি হুড়া ও আদ্রায় রয়েছে তাঁর কার্যালয়।

▪️ বান্দোয়ানের বিধায়ক লব সেন বাস্কে বরাবাজারে সেবা কেন্দ্র চালু করেছেন। বান্দোয়ান ও মানবাজার-২ ব্লকেও রয়েছে তাঁর কার্যালয়।

দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পে আবেদন, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সহায়তা, ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তির নথি, জমি-জমার সমস্যা, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বা প্রশাসনিক জটিলতা— সব ধরনের বিষয়েই মানুষ এই সেবা কেন্দ্রগুলির দ্বারস্থ হতে পারবেন। বিধায়ক অথবা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবেন। বিজেপির দাবি, নির্বাচনের সময় দেওয়া ‘জনসংযোগ’ এবং ‘জনপরিষেবা’-র প্রতিশ্রুতিকেই এবার সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তব রূপ দেওয়া হচ্ছে।