শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
১১ আগস্ট, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হল শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মোৎসর্গ দিবস। এই স্মরণসভার পাশাপাশি এদিন 'প্রতিটি বাড়িতে তেরঙ্গা' কর্মসূচিও সফলভাবে উদযাপিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, গবেষক থেকে শুরু করে অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, সকলের হাতেই ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা।
জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে দেশপ্রেমের উন্মাদনা জাগিয়ে তোলে। এর আগে, শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগে শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এদিনের এই পবিত্র কর্মসূচির শুভ সূচনা হয়।
এই মহান দিনটির তাৎপর্য ও তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব সম্পর্কে সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক (ড.) বীরবল সাহা বলেন, "ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগকে তোমরা সামনে রেখে তোমরা যখন এগিয়ে যাবে দেশের জন্য, সমাজের জন্য কিছু একটা করবে, এটাই আশা রাখবো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে"।
বর্তমান প্রজন্মের সামাজিক কর্তব্যের বার্তা দিয়ে গবেষক সুজিত কুইরি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিতভাবে বলেন, "এই বিশেষ দিনে আমাদের শহিদ অগ্নিপুত্র বীর আমাদের ক্ষুদিরাম বসুর যে বলিদান দিবস, সেখান থেকে আমাদের এটাই শিক্ষা দেয় যে ১৮ বছরের একটি যুবক যে এম.এ ডিগ্রি করতে আসেনি, সে যদি দেশের জন্য হাসিমুখে জীবন দিতে পারে, তাহলে আমাদের এই একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের গবেষক, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা দেশের প্রতি আমাদের কর্তব্য রয়েছে, দেশ বলতে সমাজের প্রতি কর্তব্য রয়েছে, পাড়া-প্রতিবেশীর প্রতি কর্তব্য রয়েছে, সেটাই এখন দেশসেবা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা পরিবার, পরিবেশ, সমাজ, দেশের প্রতি আমরা যদি কর্মমুখী হই, তাহলে আমাদের দেশের উন্নয়ন হবে। আমাদের ২০৪৭-এর যে মিশন, ভারতবর্ষকে বিশ্বগুরু বানানোর, সেই গুরুর পথে তবেই আমরা হাঁটতে পারব, যদি আমাদের ভারতবর্ষের প্রতিটা যুবক-যুবতী, বিশেষ করে শিক্ষিত যুবক-যুবতী, গবেষকরা যদি দেশের প্রতি চিন্তা করে, দেশপ্রেমকে নিজের হৃদয়ে যদি মন্থন করে এবং যদি ভক্তি আদর্শ নিয়ে আমরা যদি এগোই, তবেই আমাদের ভারতবর্ষের লক্ষ্য পূরণ হবে এবং আমরা আবার আমাদের যারা বীর শহিদ মহান ব্যক্তি ছিলেন তাঁদের চরণে প্রণাম জানাচ্ছি"।