সাধারণ খবর ব্লক

সাইরেন বাজল মোবাইলে, সতর্কবার্তাও এলো! তার পরেই পুরুলিয়ায় বজ্রাঘাতে মৃত ৪, আহত বহু

পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হল চার জনের। আহত হয়েছেন অন্তত সাত জন। মাঠে চাষের কাজ করতে গিয়ে, গবাদি পশু চরাতে গিয়ে কিংবা হাটে বাজার করতে গিয়ে বজ্রাঘাতের শিকার হয়েছেন তাঁরা।
সাইরেন বাজল মোবাইলে, সতর্কবার্তাও এলো! তার পরেই পুরুলিয়ায় বজ্রাঘাতে মৃত ৪, আহত বহু

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ মোবাইলে বেজে উঠেছিল সতর্কবার্তার সাইরেন। সঙ্গে এসেছিল বজ্রবিদ্যুৎ থেকে সাবধান থাকার বার্তা। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই পুরুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হল চার জনের। আহত হয়েছেন অন্তত সাত জন। মাঠে চাষের কাজ করতে গিয়ে, গবাদি পশু চরাতে গিয়ে কিংবা হাটে বাজার করতে গিয়ে বজ্রাঘাতের শিকার হয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আকাশের মুখ ভার হয়। আড়শা, বলরামপুর, জয়পুর-সহ একাধিক এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় বজ্রবিদ্যুৎ। আর তার জেরেই ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা।

আড়শার লছমনপুর গ্রামে মাঠে চাষের কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে আহত হন দুই মহিলা। স্থানীয়েরা তাঁদের উদ্ধার করে সিরকাবাদ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা লছমনপুরের বাসিন্দা ভারতী মাহাতো (৫১)-কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত অন্য মহিলাকে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আড়শার তুম্বাঝালদা গ্রামের বাসিন্দা শচীনাথ মাহাতো (৪৫) কাঞ্চনপুরের হাটে বাজার করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, আড়শা থানা এলাকায় বজ্রাঘাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় আহত সাত জনের মধ্যে পাঁচ জনকে পুরুলিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দু’জনের চিকিৎসা চলছে সিরকাবাদ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

আহতদের মধ্যে হেঁটজাড়ি, কাঞ্চনপুর, পলপল ও লছমনপুর এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন। পলপল গ্রামে এক মহিলা ও তাঁর সন্তান এবং হেঁটজাড়ি গ্রামের এক কিশোরও বজ্রাঘাতে আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

বলরামপুরের রাঙ্গাডি গ্রামেও বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে গৌর গরাঁই (৬৮)-এর। দুপুরে বাড়ির অদূরে মাঠে গরু চরাতে গিয়েছিলেন তিনি। কিছু ক্ষণের মধ্যেই ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় বজ্রবিদ্যুৎ। পরে স্থানীয়েরা তাঁকে মাঠে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। উদ্ধার করে বলরামপুর বাঁশগড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হবে।

জয়পুর থানার তালমু গ্রামেও বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে সুনীতা গোপ (৫০)-এর। চাষের কাজে মাঠে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ দিন ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুতের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ জেলার বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে বেজে ওঠে সাইরেন। সঙ্গে আসে সতর্কবার্তা। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যায় একের পর এক বজ্রাঘাতের ঘটনা।