সাধারণ খবর ব্লক

কন্যাসন্তান ঘরে আসতেই ঢাক-ঢোল, মিষ্টি বিলিয়ে নবজাতককে বরণ পুঞ্চার পরিবারে

কন্যাসন্তানের জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয় পরিবারে। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে নবজাতক এবং তার মাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যেরা।
কন্যাসন্তান ঘরে আসতেই ঢাক-ঢোল, মিষ্টি বিলিয়ে নবজাতককে বরণ পুঞ্চার পরিবারে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুঞ্চা:

ঘরে মেয়ে নেই। তবে তিন ছেলের বউকে বরাবরই নিজের মেয়ের মতো করে আগলে রেখেছেন তিনি। বয়স ৭০ পেরিয়েছে। এ বার সেই পরিবারের ঘরেই এল প্রপৌত্রী। তাকে কোলে তুলে আনন্দে আত্মহারা ভূতাম গ্রামের বাসিন্দা শান্তি সহিস। কন্যাসন্তানের আগমনে যেন তাঁর দীর্ঘ দিনের অপূর্ণতাও পূর্ণ হল।

তবে আনন্দ শুধু চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকেনি। কন্যাসন্তানের জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উৎসবের আবহ তৈরি হয় পরিবারে। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে, ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে নবজাতক এবং তার মাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যেরা। পথে পথেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করা হয় মিষ্টি।

ভূতাম গ্রামের বাসিন্দা শুভজিৎ সহিস তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রী অনিতা সহিসকে ভর্তি করিয়েছিলেন পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। গত বুধবার সেখানেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন অনিতা। মেয়েকে প্রথম দেখার পর থেকেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে গোটা পরিবার। তাঁদের কথায়, ‘‘ঘরে লক্ষ্মী এসেছে।’’

নাতনিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দে পরিবারের সদস্য ঊষা সহিস বলেন, ‘‘আমাদের শাশুড়ি শান্তি সহিস স্বামী এবং দুই দেওরের সংসারের তিন বউকেই নিজের মেয়ের মতো ভালবাসেন। তাই পরিবারের সকলেরই ইচ্ছে ছিল, প্রথম সন্তান মেয়ে হোক। সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে।’’

সদ্য বাবা হওয়া শুভজিতের কাছে অবশ্য উৎসবের পাশাপাশি রয়েছে নতুন স্বপ্নও। মেয়েকে ভাল ভাবে মানুষ করে নিজের পায়ে দাঁড় করানোই এখন তাঁর লক্ষ্য। শুভজিতের কথায়, ‘‘শুধু বড় করে তোলা নয়, মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। ও যেন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়, সেটাই আমার স্বপ্ন।’’

অন্য দিকে, সদ্য মা হওয়া অনিতার চোখেও আনন্দের জল। তাঁর কথায়, ‘‘এক জন নারী হয়ে কন্যাসন্তানের জন্ম দিতে পেরে আমি খুব খুশি। তার থেকেও বেশি ভাল লাগছে, পরিবারের সবাই যেভাবে মেয়েকে আপন করে নিয়েছেন।’’ তাঁর একটাই প্রার্থনা—বড় হয়ে তাঁর মেয়ে যেন ভাল মানুষ হয়।