রাজনীতি

ফলতায় বিজেপির লক্ষাধিক ভোটে জয়ের দিনেই জয়ের কারিগর জ্যোতির্ময়ও লক্ষাধিক পার

ফলতায় সংগঠন আঁকড়ে ধরে ভোটের লড়াই চালানোর দায়িত্ব দিয়েই জ্যোতির্ময়কে সেখানে পাঠিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার লক্ষাধিক ভোটে জয়ের দিনেই আরও একটি মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেললেন পুরুলিয়ার সাংসদ। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুগামীর সংখ্যা পেরিয়ে গেল এক লক্ষ।
ফলতায় বিজেপির লক্ষাধিক ভোটে জয়ের দিনেই জয়ের কারিগর জ্যোতির্ময়ও লক্ষাধিক পার

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

হার নিশ্চিত বুঝেই ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনে কার্যত ময়দান ছেড়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। ভোটের দু’দিন আগে তাঁর এলাকা ছাড়া নিয়েও চর্চা চলেছে রাজনৈতিক মহলে। আর সেই আবহেই বিজেপির অন্দরে এখন একটাই নাম, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। দলের অন্দরে অনেকেই বলছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এ সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন পুরুলিয়ার এই সাংসদই।
ফলতায় সংগঠন আঁকড়ে ধরে ভোটের লড়াই চালানোর দায়িত্ব দিয়েই জ্যোতির্ময়কে সেখানে পাঠিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার লক্ষাধিক ভোটে জয়ের দিনেই আরও একটি মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেললেন পুরুলিয়ার সাংসদ। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে অনুগামীর সংখ্যা পেরিয়ে গেল এক লক্ষ।

সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে পুরুলিয়ার কোনও রাজনৈতিক নেতার অনুগামীর সংখ্যা এখনও পর্যন্ত লক্ষ ছুঁতে পারেনি। সেই নিরিখে জ্যোতির্ময়ই জেলার প্রথম রাজনৈতিক মুখ, যিনি এই গণ্ডি পার করলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, মাঠের রাজনীতির পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও ধারাবাহিক সক্রিয়তা তাঁকে আলাদা সুবিধা এনে দিয়েছে। সংখ্যার বিচারে এখনও অনেকটাই পিছনে জেলার অন্য নেতারা। জেলা তৃণমূল চেয়ারপার্সন তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতোর ফলোয়ার্স প্রায় ৬৫ হাজার। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতোর অনুগামী প্রায় ২৯ হাজার। জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়ার ফলোয়ার্স ২৬ হাজার। বর্তমান জেলা সভাপতি রাজীবলোচন সরেনের অনুগামী প্রায় ১৪ হাজার।


মানবাজারের প্রাক্তন বিধায়ক সন্ধ্যারানি টুডু পরাজয়ের পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন। ফেসবুকে তাঁর অনুগামী প্রায় ২১ হাজার। আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রধান নেতা অজিত প্রসাদ মাহাতোর বাস্তবে সমর্থক সংখ্যা অনেক বেশি হলেও ফেসবুকে তাঁর ফলোয়ার্স প্রায় ১৮ হাজার। বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতোর ফলোয়ার্স প্রায় ৮ হাজার। প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিবেক রাঙ্গার অনুগামী ১২ হাজার। জেলা সহ-সভাপতি গৌতম রায়ের ফলোয়ার্স প্রায় ১৪ হাজার। জেলার ৯ বিজেপি বিধায়কের মধ্যে সমাজমাধ্যমে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু। জ্যোতির্ময়ের পরে তিনিই এখন জেলার সবচেয়ে ‘ডিজিটাল’ বিজেপি মুখ। তাঁর ফলোয়ার্স প্রায় ৭৪ হাজার।

অন্যদিকে বাকি বিধায়কদের মধ্যে বান্দোয়ানের লবসেন বাস্কে, বলরামপুরের জলধর মাহাতো, দু’জনেরই অনুগামী প্রায় ১০ হাজার। বাঘমুন্ডির রহিদাস মাহাতোর ১৮ হাজার, জয়পুরের বিশ্বজিৎ মাহাতোর ২১ হাজার, পাড়ার নদিয়ারচাঁদ বাউরির ১৭ হাজার, রঘুনাথপুরের মামণি বাউরির ১৫ হাজার এবং কাশিপুরের কমলাকান্ত হাঁসদার প্রায় ৯ হাজার ফলোয়ার্স রয়েছে। তবে জেলার রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি বিস্ময় তৈরি করেছে পুরুলিয়া আসনের তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের ফলোয়ার্স সংখ্যা। টানা তিন বারের বিধায়ক এবং এ বার জেলায় সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জিতেও তাঁর ফেসবুক অনুগামী মাত্র আড়াই হাজারের আশপাশে।
এ দিকে, জ্যোতির্ময়ের ফলোয়ার্স সংখ্যা লক্ষ পার হতেই সমাজমাধ্যমে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন তাঁর অনুগামীরা। বিজেপির একাংশের দাবি, মাঠের লড়াই থেকে মোবাইলের পর্দা দুই জায়গাতেই এখন জ্যোতির্ময়ের দাপট স্পষ্ট।