রাজনীতি

পুরুলিয়ায় ‘লাক্ষা হাব’ করার দাবি লোকসভায় তুললেন জ্যোতির্ময়, কী জবাব মন্ত্রীর?

লোকসভায় জ্যোতির্ময় বলেন, ‘‘লাক্ষা পুরুলিয়ার শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী ফসল নয়, হাজার হাজার পরিবারের জীবিকার সঙ্গে তা জড়িত। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বহু পরিবার এই চাষের উপর নির্ভরশীল। পুরুলিয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান ল্যাক হাব হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
পুরুলিয়ায় ‘লাক্ষা হাব’ করার দাবি  লোকসভায় তুললেন জ্যোতির্ময়,  কী জবাব মন্ত্রীর?

 

নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:

পুরুলিয়ার লাক্ষা শিল্পকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে ‘ল্যাক হাব’ তৈরির দাবি উঠল লোকসভায়। জেলার হাজার হাজার লাক্ষাচাষির আয়, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদিত লাক্ষার বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুরুলিয়ায় লাক্ষা উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মূল্য সংযোজন এবং রফতানির পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানালেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো। মঙ্গলবার, ১১ অগস্ট, লোকসভায় তাঁর প্রশ্নের লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ জানিয়েছেন, পুরুলিয়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ লাক্ষা উৎপাদক জেলাগুলির অন্যতম। জেলার ২০টি ব্লকের মধ্যে ১২টি ব্লকে প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে লাক্ষা চাষ হয়।

কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে প্রায় ২১,২৭২ টন লাক্ষা উৎপাদিত হয়েছে। ওই বছর লাক্ষা এবং লাক্ষাজাত মূল্য সংযোজিত পণ্য রফতানি করে এসেছে প্রায় ১৭৩.৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তার আগের অর্থবর্ষে উৎপাদন ছিল ২২,১৪৯ টন এবং রফতানি মূল্য প্রায় ১৬০.৫৫ মিলিয়ন ডলার।

পুরুলিয়ার লাক্ষাশিল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীন ‘শেলাক অ্যান্ড ফরেস্ট প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল’ (SHEFEXIL)। কেন্দ্র জানিয়েছে, জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসী পরিবার লাক্ষা চাষের সঙ্গে যুক্ত। ফলে লাক্ষাকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের আরও সম্ভাবনা রয়েছে।

এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যেই একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। বলরামপুর ব্লকে লাক্ষাভিত্তিক ‘বন ধন বিকাশ কেন্দ্র’ গড়ে তোলার জন্য আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে TRIFED-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় ‘১০ হাজার এফপিও গঠন ও প্রসার’ প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়ায় লাক্ষাচাষিদের জন্য ২৩টি কৃষক উৎপাদক সংস্থা বা FPO তৈরি হয়েছে।

রফতানির ক্ষেত্রেও পুরুলিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। ‘ডিস্ট্রিক্টস অ্যাজ এক্সপোর্ট হাব’ (DEH) প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলার রফতানি সম্ভাবনা চিহ্নিত করে জেলা রফতানি উন্নয়ন কমিটি এবং জেলা রফতানি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। এই পরিকল্পনা ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত।

লাক্ষা এবং লাক্ষাজাত পণ্য রফতানিকারীদের জন্য ‘এক্সপোর্ট প্রমোশন মিশন’-এর বিভিন্ন সুবিধার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে সস্তায় বাণিজ্যিক ঋণের সুযোগ, সুদে ভর্তুকি, রফতানি ফ্যাক্টরিং, ক্রেডিট গ্যারান্টি, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সহায়তা ছাড়াও গুণমান ও নিয়ম মেনে চলার সহায়তা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং, বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং রফতানি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের মতো সুবিধা রয়েছে।

কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রদর্শনী ও ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনের মাধ্যমে লাক্ষা-সহ অ-কাষ্ঠ বনজ পণ্যের রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে চারটি ‘এক্সপোর্ট ফেসিলিটেশন সেন্টার’ রয়েছে। কলকাতার সেন্ট্রাল টুল রুম অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার, এমএসএমই টেস্টিং সেন্টার, শিলিগুড়ির এমএসএমই-ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফেসিলিটেশন অফিস এবং কলকাতার এমএসএমই-ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফেসিলিটেশন অফিস থেকে রফতানিমুখী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

লোকসভায় জ্যোতির্ময় বলেন, ‘‘লাক্ষা পুরুলিয়ার শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী ফসল নয়, হাজার হাজার পরিবারের জীবিকার সঙ্গে তা জড়িত। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের বহু পরিবার এই চাষের উপর নির্ভরশীল। পুরুলিয়াকে দেশের অন্যতম প্রধান ল্যাক হাব হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এতে চাষিদের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে, মূল্য সংযোজন হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সুযোগ তৈরি হবে।’’